আচরণবিধি মানছেন না এমপি ফারুক, ইসিতে প্রতিবেদন

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ২০:৩৩

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিনের মাথায় নৌকায় ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই তার অভিযোগ উঠেছে যে, আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে সদর্পে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

এ ঘটনায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম আহমেদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

অভিযোগ ওঠার পরেও থেমে নেই ওমর ফারুকের নৌকায় ভোট প্রার্থনা।

‘আমি আইনের ছাত্র। নির্বাচনী আচরণবিধি পড়ে দেখেছি, কোথাও আচরণবিধি ভঙ্গ করছি না। প্রার্থী না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অধীনে নই আমি’
- ওমর ফারুক চৌধুরী

জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার আবারও গোদাগাড়ী উপজেলায় সভা করে নৌকায় ভোট চেয়েছেন তিনি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগের আয়োজনে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন ওমর ফারুক চৌধুরী। এ সময় তিনি আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই দিন বিকেলে কলমা ইউনিয়নে একই ধরনের আরেকটি সভা করেন তিনি।

বিষয়টি নজরে আসার পর রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম আহমেদ নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন। সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তিনি। শামীম বলেন, ‌‘ওমর ফারুক ১৮ ডিসেম্বরের আগে ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ইসিতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার তানোর উপজেলায় ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। এরপর শুক্রবার গোদাগাড়ীতে এক মতবিনিময় সভায় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর উপস্থিতিতে নৌকার জন্য ভোট চেয়ে হাত তুলে উপস্থিত সবাইকে শপথ করানো হয়। শুক্রবার সকালে সদর ইউনিয়নের একটি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ওই সভা হয়।

এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পর্কে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী অবশ্য সাংবাদিকদের বলেন, ‌‘আমি আইনের ছাত্র। নির্বাচনী আচরণবিধি পড়ে দেখেছি, কোথাও আচরণবিধি ভঙ্গ করছি না। প্রার্থী না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অধীনে নই আমি।’

এদিকে ফারুকের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলেন, ‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি একটি তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছেন। তাতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ আছে। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই প্রতিবেদন শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এখন সেখান থেকে যেভাবে বলা হবে, সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এইচএ