ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’

শাল্লায় বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ২০:৪৭

ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ ও নিম্নচাপের ফলে সুনামগঞ্জের শাল্লার বেশির ভাগ বোরো ধানের বীজতলায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় কৃষকদের এখন মাথায় হাত। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের। আবারও বীজতলা প্রস্তুতের সময় না পেলে কৃষকরা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারেন। বীজতলায় জলাবদ্ধতার কারণে হতাশায় রয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর উপজেলার ২১ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ৯৫৭ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শাল্লা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, ‘সব এলাকায় আমাদের মাঠ কর্মকর্তা রয়েছেন। বীজতলার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য তাদেরকে রাখা হয়েছে।’

এ সময় বীজতলা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এই প্রতিনিধির এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘পরবর্তীতে উপশী বীজ বিতরণের জন্য ২ হাজার ৭৫০ জনের তালিকা করা হয়েছে ও নভেম্বরের শেষে বিতরণ করা হবে।’

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তাকে মাঠে দেখেননি। তাদেরকে ফোন করা হলেও অনেক সময় ফোন ধরেন না। তারা বিভিন্ন জাতের ধানবীজ ক্রয় করে বীজতলায় ছড়িয়ে দিয়েছি। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পানিতে তলিয়ে গেছে বীজতলা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা যদি না হয় তবে বীজতলার চারাগুলো পচে যাবে। তখন অতিরিক্ত দামে বীজ কিনে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ের বোরো ধানের বীজতলা পানিরে নিচে তলিয়ে গেছে। আবার কোথাও আগের বীজ নষ্ট হওয়ায় আবারও বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা।

বাহাড়া ইউপির কৃষ্ণপদ দাশ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে যতখানি বীজের ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

মুসলিম উদ্দিন নামে কৃষক বলেন, ‘আমি ৭০ কেয়ার জমির মধ্যে ৩০ কেয়ার জমির ধান বীজতলায় বাইন করেছি। বৃষ্টির পানিতে সব ধান নষ্ট হবে। এই বীজতলায় আবার নতুন করে ধান কিনে বীজতলা তৈরি করতে হবে। বৃষ্টির কারণে এমন ক্ষতি আর কখনও হয়নি। শুধু আমারই না, অনেক কৃষকের ক্ষতি হবে।’

ইউপি সদস্য দেবব্রত সরকার বলেন, ‘আমার ৫০ কেজি ধানের বীজতলা একেবারে শেষ হয়ে গেছে। আমি একজন কৃষি অফিসের কর্মকর্তাকে কল দিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে। বৃষ্টিতে আমার মতো আরও কৃষকের বীজতলার যে ক্ষতি হয়েছে, কৃষি কর্মকর্তাদের উচিত ছিল মাঠে পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা কোনো কৃষি কর্মকর্তাকে কৃষকদের পরামর্শ দিতে দেখিনি।’

আটগাঁও গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমি যে বীজতলা করেছি বৃষ্টির পানিতে সব বীজতলা তলিয়ে গেছে। শুধু বীজতলায় নয় বৃষ্টির কারণে বাড়িতেই অনেক বীজ নষ্ট হয়েছে। বীজতলার পানি না সরলে সব বীজ নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের এলাকার বেশির ভাগ কৃষক বীজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে।’

ইত্তেফাক/এইচএ