শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

২৮ অক্টোবর নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৩, ১৭:০০

বিএনপির মহাসমাবেশ (২৮ অক্টোবর) ও পরবর্তী সময়ে নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী এবং নাশকতায় সক্রিয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক শামিম মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতার ছাত্রদল নেতা মহাসমাবেশের দিন নয়াপল্টন পার্টি অফিস এলাকা এবং রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে দাবি করছে পুলিশ।

বুধবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি'র যুগ্ম কমিশনার ড. খ: মহীদ উদ্দিন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।

মঙ্গলবার শামীমকে রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মহিদ উদ্দিন বলেন,‘শামীম গত ২৬ অক্টোবর থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলো। যার বাস্তবায়ন করেছিলো ২৮ অক্টোবর। সেদিনের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সে পল্টন পার্টি অফিস ও রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নাশকতার জন্য ঢুকেছিলো। ব্যাগে করে ককটেল নিয়ে সে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তার দলীয় পরিচয় আমরা জেনেছি, সে ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের এক নাম্বার যুগ্ম আহবায়ক। শামীমের কেন্দ্রীয় এক নেতার নির্দেশনা অনুযায়ী সমাবেশের আগে দনিয়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে গিয়ে মারুফ নামের একজনের থেকে একটি ব্যাগ সংগ্রহ করেন। সেটি এনে রিয়াদ নামের একজনের কাছে নয়া পল্টনে পৌঁছে দেবে৷ পরিকল্পনা অনুযায়ী সেটা করাও হয়৷ ২৮ তারিখে সে কাজগুলো তারা করতেও পারে সফলভাবে।’

চলতি মাসের ৫ অক্টোবর সবুজবাগ থানার মানিকদিয় গ্রীন মডেল টাউনের এর ভিতরের শেষ মাথায় খালপাড়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা করছে। অল্প দূরে সবুজবাগ থানার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইলে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ বিশেষ, একটি অবিস্ফোরিত ককটেল,একটি পেট্রোল বোমা,দুইটি ২৫০ মি.লি. প্লাস্টিকের বোতলে ৫০০ মি.লি. পেট্রোল, একটি নীল রংয়ের মোটর সাইকেল, একটি লাল রংয়ের হেলমেট।সেদিন জব্দ করা মোটর সাইকেলের সূত্র ধরে ছাত্রদল নেতা শামীমকে শনাক্ত করা গেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এছাড়া বুধবার ভোরে রাজধানীর  পল্লবীর ১১ নাম্বার ওয়ালটনের গলিতে পার্কিং করা অবস্থায় বসুমতী পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগকারী মারুফকে গেপ্তার করেছে পুলিশ৷ মারুফকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি নেতা সাজ্জাদ কাউন্সিলর ও জসিমের নির্দেশে ও তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ও প্ররোচনায় কেরোসিন ঢেলে এই বাসে আগুন দেয়। এই কাজের জন্য তাকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে৷এই ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা করা হয়েছে।’

বিএনপি তালাবন্ধ অফিসের চাবি পুলিশের হাতে দলটির এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ড. খ: মহিদ উদ্দিন বলেন, এর আগে একাধিকবার বলেছি। বিএনপি অফিসের চাবি তাদের হাতে। একাধিকবার স্পষ্ট করে বলেছি এই চাবি তো আমাদের হাতে নয়।

ইত্তেফাক/এনএ