বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

আমনের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক, উৎপাদন খরচ উঠছে না

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৪৫

হাটবাজারে উঠতে শুরু করেছে আমন ধান। জমে উঠছে বেচাকেনা। কিন্তু ফলন ভালো হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বাজারে ধানের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ উঠানো নিয়ে শঙ্কায় তারা। আমাদের অফিস ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর—

দিনাজপুর অফিস: কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ দিনাজপুরের কৃষকরা। তারা বলছেন, চাষের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানের উত্পাদন খরচ বেড়েছে। এমন অবস্থায় বাজারে ধানের দাম কম থাকায় ঠিকমতো উত্পাদন খরচই উঠছে না তাদের। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। দিনাজপুরের অন্যতম বড় ধানের হাট সদর উপজেলার নশিপুর ফার্ম হাট। এই হাটে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা ধানের দাম ১০০-১৫০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে বি আর-৫১ জাতের প্রতি বস্তা (৮০ কেজি) ধান ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এই হাটে তা নেমে এসেছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। অনুরূপভাবে গুটি স্বর্ণ ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়, জিরা-৯০ ধান ২ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় নেমে এসেছে।

নশিপুর ফার্ম হাটে বি আর-৫১ জাতের ৬ বস্তা ধান বিক্রি করতে আসেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার আজিমপুর গ্রামের কৃষক রণজিত্ কুমার সরকার। তিনি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকারও বেশি। সেই জমিতে উৎপাদিত বি আর-৫১ জাতের ১২ বস্তা (প্রতি বস্তা ৮০ কেজি) ধান বিক্রি করে পাচ্ছেন ২৫ হাজার ২০০ টাকা। এতে তার উৎপাদন খরচই উঠছে না। ধান ক্রেতা ইমরান আলী জানান, মিল মালিকরা ঠিকমতো ধান কিনতে শুরু না করায় দাম কমতে শুরু করেছে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে দিনাজপুর জেলায় আমন সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। দিনাজপুর জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন জানান, দিনাজপুর জেলায় ৩০ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে ৮ হাজার ৭৩৭ মেট্রিক টন ধান এবং মিল মালিকদের কাছ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুজ্জামান জানান, জেলায় এবার ২ লাখ ৭১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো।

চাটমোহর (পাবনা): চলনবিল অঞ্চলে চলছে আমন ধানকাটা মাড়াই। কিন্তু ধানের হাটে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষক। বাজারভেদে প্রতি মণ মোটা আমন ধান ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, ধানি গোল্ড ধান ১০৫০ টাকা, মোটা স্বর্ণা ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চাটমোহরের কৃষক মামুনুর রহমান জানান, ধানের দাম নেই। বাজারে ক্রেতাও নেই। এবার ধানে লোকসান না হলেও লাভের মুখ দেখা হবে না।

চাটমোহরের মির্জাপুর হাটে ধান বিক্রি করতে আসা তাড়াশ উপজেলার কৃষক আকতার হোসেন বলেন, ‘মৌসুমে আগাম জাতের বিনা ৯০ দানের দাম বেশি হওয়ায় এবারও সেই ধান চাষ করেছি। কিন্তু পাইকার বা মিল মালিকরা ধানের দাম বলছেন না।’ চাটমোহরের ফৈলজানা এলাকার কৃষক আ. সালাম বলেন, ‘সেচ দিয়ে ধান চাষ করে এখন লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। অবরোধের কারণে হাটবার ছাড়াও ধানের ক্রেতা পাওয়া যায় না।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, এ বছর চাটমোহর উপজেলায় এবার ১৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এ মাসুম বিল্লাহ জানান, লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হচ্ছে। ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এখন ধানের দাম কিছুটা কম হলেও তা বাড়বে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের নানাভাবে সহযোগিতা করছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম