শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

চার রুটে নগর পরিবহনের ১০০ বাস চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা

রেশনালাইজেশন কমিটির সভা হয়নি পাঁচ মাসেও

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৪৯

রাজধানীতে চারটি রুটে নগর পরিবহনের ১০০টি নতুন বাস চালু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ বেসরকারি বাস মালিকদের সাড়া নেই। এছাড়া বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভা জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। এতে রাজধানীতে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছিল সেটি আরো বিলম্ব হচ্ছে। 

জানা যায়, ২৪, ২৫, ২৭ ও ২৮ নম্বর রুটে মোট ১০০টি নতুন বাস চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) বাস মালিকদের ১০০টি বাস চারটি রুটে পরিচালনায় জন্য যারা আগ্রহী তাদের আবেদন করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে এখন পর্যন্ত তিন-চারটি কোম্পানি আবেদন করেছে বলে জানা গেছে। এদিকে বাস রেশনালাইজেশন কমিটি গত পাঁচ মাসে কোনো বৈঠক করেনি, ফলে চারটি রুটে নতুন বাস সার্ভিস চালুর ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সামনে নির্বাচনের আগে কোনো বৈঠক করার কোনো তারিখও নির্ধারণ হয়নি। এতে এসব রুটে নতুন বাস চালু হতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে নগরবাসীকে।

এ বিষয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বলেন, আমরা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর তিন-চারটি আবেদন পেয়েছি। এগুলো নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। নতুন চারটি রুটে ২৫টি করে ১০০টি বাস চালুর জন্য ব্যবস্থা করা হবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভা জানুয়ারিতে হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে তিনি জানান। তবে কবে হতে পারে তিনি সেটি নিশ্চিত জানাতে পারেননি। 

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটিকে যানজট নিরসন এবং গণপরিবহন সমন্বয় করে পরিচালনার জন্য কঠিন দায়িত্ব দেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল বাস রুটগুলোকে যুক্ত করে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক কোম্পানির অধীনে পাবলিক বাস পরিচালনা করা।

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশনের কমিটি গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঘাটারচর থেকে মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, প্রেসক্লাব, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী হয়ে কাঁচপুর পর্যন্ত ঢাকা নগর পরিবহনের বাস সেবা শুরু করে। তখন এ রুটে বিআরটিসির ৩০টি দ্বিতল বাস ও বেসরকারি একটি কোম্পানির ২০টি বাস নিয়ে মোট ৫০টি বাস দিয়ে যাত্রা শুরু হয়।

ঢাকার গণপরিবহনের মালিকের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। আর ঢাকা ও আশপাশে দুই শতাধিক পথে (রুট) বাস চলাচল করে। যাত্রী তোলার জন্য এক বাসের চালক অন্য বাসের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ায় দুর্ঘটনাও ঘটে। এ ব্যবস্থা পরিবর্তনে ২০০৪ সালে ঢাকার জন্য করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনায় ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজি চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে লক্কড়ঝক্কড় বাস তুলে নেওয়া। সহজশর্তের ঋণে নতুন বাস নামানো। বাস চলবে কয়েকটি কোম্পানির অধীন। এ প্রক্রিয়াতেই গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রুটভিত্তিক বাস নামানো শুরু হয়েছে। অবশ্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে বাস নামানোর পর ব্যাপক সাড়া পড়েছিল। তবে বাসগুলো পুরোনো ও ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

ইত্তেফাক/এএইচপি