উপকূলীয় এলাকার আবাদি জমির প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততা ও স্বাদু পানির অভাবের জন্য অনেক জমি পতিত থাকছে। ফলে এখানকার ৪ কোটি মানুষের মধ্যে ৬০ শতাংশ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করেন। উক্ত তিন সমস্যা সমাধানের জন্য উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১৩৯টি পোল্ডার স্থাপন করা হয়েছে; যার বেশির ভাগই খুলনা এলাকায়। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য ফসলের নিবিড়তা ও উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির একমাত্র স্থান দেশের উপকূলীয় অঞ্চল।
‘উপকূলীয় খুলনা অঞ্চলে পানি ও মাটির লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পতিত জমি আবাদ ও ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর আভা সেন্টারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্মশালাটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ব্রি’র খুলনা স্যাটেলাইট স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়।
ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার।
কর্মশালায় জানানো হয়, উপকূলীয় অঞ্চলের ফসল উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য নদী-খাল খননের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ, আমনে আধুনিক জাতের আবাদ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে নদী-খাল ইজারা বন্ধ, উন্নত জাতের স্বল্পমেয়াদি আমন চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি মন্ত্রণালয়, ব্রি’র সব স্তরের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিদ্যমান প্রযুক্তিসমূহ কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।
