বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবিতে মুগ্ধতায় রং ছড়ালো বর্ণিল প্রজাপতি

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ১২:৫০

‘প্রজাপতি প্রজাপতি, কোথায় পেলে ভাই এমন রঙ্গীন পাখা...’ কবি কাজী নজরুল ইসলাম হয়তো প্রজাপতির রঙিন গড়নে মুগ্ধ হয়ে গানটি রচনা করেছিলেন। প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর এই প্রজাপতির ডানায় মিশে আছে অজানা অকৃত্রিম ভালবাসা। কিন্তু দিনে দিনে কমছে প্রজাপতির সংখ্যা। তাই প্রজাপতি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বসেছিল ভিন্নধর্মী মেলা। নানা প্রজাতির বর্ণিল ডানাওয়ালা প্রজাপতি আনন্দ বিলিয়েছে মেলায়। এতে পদচারণা ছিল সব বয়সের মানুষের। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের প্রজাপতির রূপ ধারণের দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) দিনব্যাপী ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ স্লোগানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখার উদ্যোগে ১৩তম বারের মতো প্রজাপতি মেলা আয়োজিত হয়। এদিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম এই মেলার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকালে অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি মেলা ও প্রজাপতি মেলা সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ-প্রকৃতি সংরক্ষণে সব ধরনের চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বয় করে মাষ্টারপ্ল্যান তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। এই মাষ্টারপ্ল্যান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনের সঙ্গে আলাপও করা হবে। ’

মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সবকিছু নিয়ে আমাদের পরিবেশ। প্রজাপতি এই পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরাগায়নের মাধ্যমে প্রজাপতি পরিবেশ ও প্রকৃতি এবং বনাঞ্চল রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। পরিবেশের ছোট্ট প্রাণীটিকে ভালবাসতে হবে। আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২০ প্রজাতির প্রজাপতি লক্ষ্য করা যেত। তবে এই সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমছে। তাই প্রজাপতি রক্ষায় এর বাসযোগ্য পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।’

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাদা জাল দিয়ে ঘেরা প্রদর্শনী ঘরের মধ্যে কিছু ফুলের গাছ। আর রঙিন পাখায় ভর করে গাছের পাতায় ও ফুলে উড়ে উড়ে খেলা করছে নানা রঙ-প্রজাতির প্রজাপতি। প্রজাপতির দৃষ্টিনন্দন রঙ আর মনোমুগ্ধকর খেলা বাইরে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছে শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষ। এদের মধ্যে অনেকেই আবার প্রজাপতির রঙিন পাখার উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করতে ব্যস্ত।

মেলায় এসব রঙিন প্রজাপতি দেখতে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে বাচ্চাদের নিয়ে এসেছিলেন আইনুন নাহার। তিনি বলেন, ‘শহরে যেহেতু প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ কম। এজন্য ছুটির দিনে বাচ্চাদের নিয়ে প্রজাপতি মেলা দেখতে এসেছি। যাতে বাচ্চারা প্রজাপতি ও প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারে। এখানে এসে প্রজাপতি দেখে তারাও অনেক খুশি।’

দিনব্যাপী মেলার অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল- বর্ণাঢ্য র‌্যালি, প্রজাপতির গল্পে পাপেট শো ও প্রজাপতির অরিগ্যামি প্যারেড, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী, জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি ওড়ানো, বারোয়ারী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন।

এবছর বন্যপ্রাণী ও প্রজাপতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলামকে ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে ‘বাটারফ্লাই ইয়াং ইনথুসিয়াস্ট-২০২৩’ এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রিন্ট, ডিজিটাল ও ব্রডকাস্ট ক্যাটাগরিতে তিনজনকে মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মৌসুমী টয়লেট্রিজের চেয়ারম্যান রাজিব উদ্দিন আহমেদ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের অধিকর্তা মুকিত মজুমদার বাবু, বার্ড ক্লাবের সভাপতি ইনাম আল হক, বন সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ও আইইউসিএন-এর সারোয়ার আলম প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এআই