মুন্সীগঞ্জে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ

স্ত্রী ও শ্বশুর আটক

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ০১:৩০

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকায় সায়লা নামে এক গৃহবধূ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সুজন দেওয়ান পেশায় ছিলেন রংমিস্ত্রি। সুজন-সায়লা দম্পত্তির চার পুত্র রয়েছে। নিহত সুজনের বোন আকলিমা বেগম জানান, দীর্ঘদিন যাবত সুজনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সংসারে ঝগড়া চলছিল। এই ঘটনায় একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল, কিন্তু প্রতিদিন এই বিষয়ে সন্তানদের সামনেই ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়তেন সুজন-সায়লা দম্পত্তি।

গতকাল শনিবার সকালে পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে সুজনের বোন আকলিমার কাছে ফোন আসে তার ভাই সুজন অসুস্থ। আকলিমা ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান সুজন মারা গেছে। সুজনের ভাড়া বাড়ি থেকে মৃতদেহ বোন আকলিমার বাড়িতে নেওয়ার অনুরোধ করেন সুজনের স্ত্রী ও শ্বশুর। এরপর সুজনের মৃতদেহ নিয়ে তার বোন শহরের ইদ্রাকপুরে চলে আসেন। পরবর্তীকালে আকলিমার বাড়িতে সুজনের আত্মীয়রা মৃতদেহ দাফনের জন্য প্রস্তুতি নিলে সুজনের গলায় এবং পিঠে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেয় স্বজনরা। পুলিশ এসে সুজনের স্ত্রী-সন্তান এবং শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সন্দেহ প্রকাশ করে। পরে নিহতের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পুলিশ। নিহতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহত সুজনের স্ত্রী সায়লা ও শ্বশুর মনির হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে সুজনের স্ত্রী এবং শ্বশুর হত্যার ঘটনা অস্বীকার করেছেন। সারা রাত মদপান করে সুজন নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি তাদের।

এই বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খাইরুল ইসলাম জানান, মৃতদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটি আত্মহত্যাও হতে পারে বা শ্বাসরোধ করেও হত্যা হতে পারে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ইত্তেফাক/এমএএম