চট্টগ্রামে শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ২৩:৪৫

চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমিতে মিডশিপম্যান ২০২১এ ব্যাচ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৩বি ব্যাচের শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ রোববার (২৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। 

এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২১এ ব্যাচের ৫৩ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২৩বি ব্যাচের ১০ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ৬৩ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। উল্লেখ্য, এদের মধ্যে আটজন নারী মিডশিপম্যান ও দুইজন নারী ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার রয়েছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারীদের হাতে পদক তুলে দেন। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে মিডশিপম্যান ২০২১এ ব্যাচের মিডশিপম্যান মো. ফারহান আলী, (এক্স), বিএন সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী সেরা চৌকশ মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন। এছাড়া মিডশিপম্যান ইফতেখার আজম, (ই), বিএন প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৩বি ব্যাচের এ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট আসিফ মোহাম্মদ সামী, (শিক্ষা), বিএন শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। পরে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নৌবাহিনী প্রধান তাঁর ভাষণে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সেই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর নৌ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অসামান্য প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ একটি আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশের উত্তরোত্তর উন্নয়নে ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নকে মাথায় রেখে নৌবাহিনীকে যুগোপযোগী এবং টেকনোলজি সম্পন্ন স্মার্ট নৌবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

একটি সমৃদ্ধশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নৌবহরে বিভিন্ন শ্রেণির জাহাজ, স্পেশাল ফোর্স, হেলিকপ্টার, এমপিএ এবং সাবমেরিন যুক্ত হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি স্মার্ট নৌবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রযুক্তি নৌবাহিনীতে প্রতিনিয়ত সংযোজিত হচ্ছে। আধুনিক এবং ত্রিমাত্রিক এই নৌবাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নয়নের জন্য চৌকশ এবং প্রশিক্ষিত কর্মকর্তাদের গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, আজকের নবীন কর্মকর্তারা নেভাল একাডেমি থেকে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে। তিনি পেশা হিসেবে দেশ সেবার এ পবিত্র দায়িত্বকে বেছে নেওয়ায় নবীন কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

নৌপ্রধান কঠোর প্রশিক্ষণ প্রদানে যে সব কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও নৌসদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে নৌপ্রধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নবীন কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এমএএম