ঈশ্বরদী জংশনে বারবার নাশকতার চেষ্টা

নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:০০

ঈশ্বরদী রেল জংশনে বার বার নাশকতার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সবশেষ গত ২৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রেল ইয়ার্ডের ওয়াশফিটে ট্রেনের বগিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ৫৫৫১ নম্বর কোচের ১১টি সিট আগুনে পুড়ে গেছে। এর আগে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, স্টেশনে ট্রেনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধার এবং রেলগেটে রেললাইনের ওপর অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ স্টেশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা। একাধিকবার নাশকতার চেষ্টা হলেও এখনো পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি। এসব ঘটনায় জানমালের কোনো ক্ষতি না হলেও আতংকগ্রস্ত সাধারণ যাত্রীরা।

নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা বিষয়ে সোমবার রাতে রেলইয়ার্ডে সমবেত প্রশাসন, পাবনা জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বারংবার ঈশ্বরদী জংশনে নাশকতার চেষ্টা চালানোর পরও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারকরণে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকে দায়ী করেন তারা। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সবচেয়ে বড় জংশন স্টেশনের নিরাপত্তায় রেল পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা অপ্রতুল। স্টেশনের ১৭টি সিসি ক্যামেরা নষ্ট। ইয়ার্ডে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। ফলে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের অধীনে ঈশ্বরদী জংশনের ওপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০টি ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে প্রায় ২০ সহস্রাধিক যাত্রী পরিবাহিত হয়। স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে সুবিশাল রেল ইয়ার্ড। রেল ইয়ার্ডে যাত্রীবাহী ও মালবাহী বিপুলসংখ্যক বগি সব সময় অবস্থান করে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য ছাড়াও দেশীয় পণ্য লোড-আনলোডের কারণে ব্যস্ত থাকে রেলইয়ার্ড। রয়েছে লোকোমেটিভ ও রেলওয়ে ক্যারেজ। সবকিছুরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজন। তাছাড়াও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

স্টেশনের দায়িত্বরত সুপারিনটেনডেন্ট (এসএস) মহিউল ইসলাম ট্রেনের বগিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় রেল নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করে বলেন, তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করত, তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবির কুমার দাস সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহত্তম জংশন স্টেশনে সিসি ক্যামেরা না থাকা দুঃখজনক। থাকলে সহজে অপরাধীদের শনাক্ত করা যেত।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাসুদ আলম বলেন, এসব ঘটনা রেল পুলিশের অধীনস্থ হলেও পাবনা জেলা পুলিশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তত্পর। রেল পুলিশের পাকশীর পুলিশ সুপার সাহাব উদ্দিন বলেন, রেল ইয়ার্ডের নিরাপত্তার দায়িত্ব রেল নিরাপত্তা বাহিনীর। ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পার্বতিপুর রুটের আব্দুলপুর স্টেশন, রাজশাহী রুটের হরিয়াণ স্টেশন, পাবনার ঢালারচর স্টেশন, সিরাজগঞ্জ রুটের মাঝগ্রাম স্টেশন এবং খুলনা রুটের পাকশী স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত। রেলইয়ার্ড ছাড়াও চার-পাঁচটি ট্রেনে রেল পুলিশকে এসকর্টের দায়িত্ব পালন করতে হয়। রেল থানায় অফিসার-সিপাহিসহ মোট মঞ্জুরিকৃত পদ মাত্র ৫০টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৫ জন।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ঈশ্বরদী সার্কেলের পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ জানান, জনবল কম থাকায় সুদীর্ঘ ফাঁকা ইয়ার্ডে নিরাপত্তা বিধান করা খুবই কষ্টসাধ্য। অফিসার-সিপাহিসহ এ সার্কেলে জেনারেল শাখায় মঞ্জুরিকৃত পদ ১৪৮টি থাকলেও বর্তমানে ৭৯ পদই শূন্য। শূন্য পদের বিপরীতে পাকশী রিজার্ভ থেকে মাত্র পাঁচ জনকে রিলিভিং দেওয়া হচ্ছে। আরএনবির গোয়েন্দা শাখায় ১৮ জন এবং অস্ত্র শাখায় ২১ জন কর্মরত আছেন। হরতাল-অবরোধ পরিস্থিতিতে জেনারেল ও অস্ত্রশাখার সদস্যদের সমন্বয়ে অস্ত্র টহল পার্টি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অতি নগণ্যসংখ্যক সদস্য নিয়ে ঈশ্বরদীর বিশাল রেল ইয়ার্ড এবং উল্লিখিত রেল এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে আরএনবি।

ইত্তেফাক/এমএএম