টেস্ট ফরম্যাটকে বলা হয় ক্রিকেটের আভিজাত্যের ফরম্যাট। যেখানে ব্যাটারদের দিতে হয় ধৈর্যের পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় বারবার ফেল করা দলের নাম বলতে গেলে প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশের নাম। সাদা পোশাকে ২৩ বছর ধরে খেললেও এখনো এই ফরম্যাটে খেলার কৌশল যেন আয়ত্ত করতে পারেননি টাইগাররা। কিউইদের বিপেক্ষ এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে পাঁচ বছর পর আবারও টেস্ট ক্রিকেট ফিরে সিলেটে।
কিউইদের কথা মাথায় রেখে স্পিনবান্ধব উইকেটে মাঠে নামে স্বাগতিকরা। তবে সেই উইকেটে কিউইদের পার্টটাইম স্পিনার গ্লেন ফিলিপসের ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয় শান্ত বাহিনী। বল হাতে প্রথম দিন গ্লেন ফিলিপস শিকার করেন চার টাইগার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে গতকাল বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের ১৩তম টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে মাঠে নামে বাংলাদেশ।
সেই সঙ্গে কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় শাহাদাত হোসেন দিপুর। তবে নিজের অভিষেকটা মনে রাখার মতো করে রাঙাতে পারলেন না এই ক্রিকেটাররা। অভিষেকে ব্যাট হাতে মাত্র ২৪ রান করেন দিপু, অন্যদিকে শান্ত মারমুখি ব্যাটিং শুরু করলেও ফুলটস বলে বিলিয়ে দেয় নিজের উইকেট। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় বাদে টাইগারদের প্রথম ইনিংসের গোটা চিত্রটাই এমন ছিল।
ম্যাচের আগের দিন গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে টাইগার নয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে প্রশ্ন করা হয় টস নিয়ে। সেই পশ্নের উত্তরে শান্ত বলেন, ‘এই উইকেটে টস অনেক বড় ফ্যাক্ট! তবে আমাদের যার যেই রোল সেটা যথাযথ পালন করার চেষ্টা করব আমরা।’ তবে মাঠে সেই চেষ্টার তেমন কিছু দেখা যায়নি খেলোয়াড়দের মধ্যে।
গতকাল কিউইদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুতে ভালোই করেন টাইগার দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় এবং জাকির হোসেন। দেখেশুনে খেলতে থাকেন জয়। তবে ম্যাচের ১৩তম ওভারে প্যাটেলের বলে বোল্ড হয়ে ৪১ বল খেলে ১২ রান করে ফেরেন জাকির হোসেন। জাকিরের পর উইকেটে আসেন শান্ত। শুরু আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে থাকেন তিনি। হুট করে কেউ দেখলে মনে হতে পারে টেস্ট না বরং সাদা পোশাকে ওয়ানডে খেলছেন টাইগার অধিনায়ক।
তবে ২৫তম ওভারে ফিলিপসের করা ফুলটস বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এমন দায়িত্ব-জ্ঞানহীন শর্ট খেলে দলকে বিপদের মুখে ফেলে ফেরেন তিনি। ৩৫ বল খেলে ৩ ছয় এবং ২ চারে ৩৭ রান করেন শান্ত। তবে অন্যপ্রান্তে জয় টেস্ট মেজাজে ব্যাট চালিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়াদের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন। সেঞ্চুরি থেকে ১৪ রান দূরে থাকতে সোদির বলে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ৮৬ রান। শান্তর পর উইকেটে আসেন দীর্ঘদিন অফ ফর্মে থাকা মুমিনুল হক। এই ব্যাটার করেন ৩৭ রান। মুমিনুলের পর আর বাংলাদেশি কোনো ব্যাটার ৩০ রানের গণ্ডি পেরোতেই পারেননি।
এদিন টাইগারদের এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম মাত্র ১২ রান করেন। এরপর যথাক্রমে শাহাদাত হোসেন দিপু করে ২৪, মেহেদি হাসান মিরাজ ২০, নুরুল হোসেন সোহান ২৯, নাঈম হাসান ১৬ রান করে আউট হন। সেই সঙ্গে তাইজুল ইসলাম ৮ রানে এবং শরিফুল ইসাল ১৩ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম দিন শেষ করে।
প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১০ রান। কিউইদের হয়ে ফিলিপসের শিকার ৪ উইকেট। অথচ বল হাতে তার অতটা সুখ্যাতি নেই বললেই চলে। উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবেই নিজেকে পরিচয় দেন তিনি। কিন্তু গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে যেন পুরোদস্তুর স্পিনারই বনে গেলেন। কিংবদন্তি স্পিনারদের মতো উইকেটে বল টার্ন করিয়েছেন ফিলিপস। এছাড়া দুটি করে উইকেট কাইল জেমিসন ও এজাজের।
