শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ইউক্রেনের আভদিভকা শহর দখলে চতুর্দিক থেকে হামলা রাশিয়ার

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ১০:৫৬

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর আভদিভকা দখলে সামরিক অভিযান আরো জোরদার করেছে রুশ বাহিনী। যুদ্ধ চলাকালীন আভদিভকা শহরে অগ্রসর হচ্ছে রুশ সেনারা। এজন্য শহরটির চারদিক থেকে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। সোমবার ঊর্ধ্বতন ইউক্রেন কর্মকর্তার বরাতে এ খবর জানা গেছে। এদিকে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে আরো ৩ হাজার চেচেন যোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট রমজান কাদিরভ। খবর রয়টার্স। 

আভদিভকা সেনাবাহিনীর প্রধান ভিতালি বারাবাস বলেছেন, গত সপ্তাহের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা যায়, রুশ সেনাদের প্রতিহত করতে সক্রিয় আছে ইউক্রেনের সৈন্যরা। এসপ্রেসো টিভিকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আভদিভকার পরিস্থিতি দিনদিন আরো জটিল হচ্ছে। হামলার তীব্রতাও দিনদিন বাড়ছে।  সেনাবাহিনীর প্রধান বলেন, রাশিয়া নতুন নতুন সেক্টর খুলে আক্রমণ শুরু করছে। বিশেষ করে দোনেস্কের দিকে এবং শিল্প এলাকায় রুশ সেনারা অগ্রসর হচ্ছে। ২১ মাসের যুদ্ধের পর আভদিভকায় কোনো ভবনই আর অক্ষত নেই। যেখানে আগে ৩২ হাজারের মতো মানুষ বসবাস করত সেখানে এখন ১ হাজার ৫০০-এর কম মানুষের বসবাস।  বেশির ভাগ হামলা শিল্পাঞ্চলকে উদ্দেশ করে চালানো হচ্ছে। এদিকে ইউক্রেন এবং পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন রাশিয়ারও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তবে সরকারি হিসেবে সে কথা উল্লেখ করা হয়নি বললেই চলে। অন্যদিকে রাশিয়া বলছে, রুশ সেনারা ইউক্রেনের শিল্প অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকে আরো সুরক্ষিত করছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো আক্রমণ শুরু করলে ইউক্রেন জুনে পালটা হামলা চালায়। যদিও তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের সামান্য কিছু অংশ তারা দখল করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ কথা স্বীকার করলেও যুদ্ধ যে অচলাবস্থা তৈরি রয়েছে এই বিষয়ে পরামর্শ নিতে নারাজ তিনি। 

ইউক্রেনের সামরিক মুখপাত্র ওলেক্সান্ডার শুপুন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বার্তায় বলছেন, শীতকালীন আবহাওয়া এবং তীব্র বাতাস দুই পক্ষের ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, রুশ বাহিনী আভদিভকা ও মারইঙ্কা শহরের কাছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কবলে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা লড়াই করছি এবং এই আবহাওয়া সত্ত্বেও লড়াই চালিয়ে যাব। 

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর পক্ষে নতুন আরো ৩ হাজার যোদ্ধা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট রমজান কাদিরভ। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া একে পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন। কাস্পিয়ান অঞ্চলের চেচনিয়া প্রদেশের প্রেসিডেন্ট রমজান কাদিরভ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘অত্যন্ত আস্থা ভাজন’ হিসেবে পরিচিত। সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া ঐ পোস্টে নতুন যোদ্ধাদের দক্ষতা নিয়ে কাদিরভ বলেন, এই যোদ্ধাদের সবাই অত্যন্ত লড়াকু মানসিকতার এবং লক্ষ্য অর্জনের প্রতি দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। এ সময় তিনি আরো বলেন, তাদের প্রত্যেকেই সেরা সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাশিয়ান ন্যাশনাল গার্ড ফোর্সের অধীনে ইউক্রেনে গঠিত নতুন ইউনিটে যুদ্ধ করবে তারা। গত মে মাসে, কাদিরভ জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনীতে এ পর্যন্ত মোট ২৬ হাজার চেচেন সেনা পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার প্রশিক্ষিত এবং ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সেনা সদস্য ছিল। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রমজান কাদিরভের নির্দেশে রুশ বাহিনীর পক্ষে হাজার হাজার চেচেন যোদ্ধা যোগ দিয়েছেন। একই সময়, ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষে লড়াইয়ে নামে কাদিরভ বিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র চেচেন গোষ্ঠী।

এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রুশ সমর্থিত ওয়াগনার গ্রুপও। তাদের যোদ্ধারা গত ২৩ জুন রুশ বাহিনী ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ‘অপারেশনে’ রীতিমতো নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে নভেম্বরের শুরুর দিকে কাদিরভ জানিয়েছিলেন, ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন নিহত হওয়ার পর তাদের যোদ্ধাদের একটি অংশ চেচেন বাহিনীতে যোগ দিয়েছে।

ইত্তেফাক/এমটি