রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জার্মানিতে ইহুদিবিদ্বেষ বেড়েছে ৩০০ শতাংশের বেশি

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ১৯:৩৫

জার্মানিতে ইহুদিবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখে জার্মান সরকারের রিসার্চ অ্যান্ড ইনফর্মেশন অন অ্যান্টিসেমেটিজম (আরআইএএস) বিভাগটি। তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় মঙ্গলবারে। প্রতিবেদনে বলা হয়,  ৭ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে দিনে গড়ে অন্তত ২৯টি ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা ঘটেছে জার্মানিতে।

ইহুদিরা বাস করেন এমন বাসার দেওয়ালে বা রাস্তার দেওয়ালে বিদ্বেষপূর্ণ গ্রাফিতি আঁকা, এমনকি তাদের মারধর করার মতো ঘটনাও ঘটেছে এই সময়কালে।

২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৩ সালে ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনা বেড়েছে ৩২০ শতাংশ, জানাচ্ছে এই প্রতিবেদন।

আরআইএএস জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে মোট ৯৯৪টি যাচাই হওয়া ঘটনাকে খতিয়ে দেখেছে তারা। এর মধ্যে আছে তিনটি চরম সহিংসতা, ২৯টি হামলা, ৭২টি নির্দিষ্ট সম্পত্তি ধ্বংস, ৩২টি হুমকি দেওয়া, ৪টি ইহুদিবিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য চিঠি আকারে গণহারে ছড়ানো, ৮৫৪টি ক্ষতিকর আচরণের অভিযোগ।

৮৫৪টি ক্ষতিকর আচরণের মধ্যে রয়েছে ১৭৭টি ইহুদিবিদ্বেষী জমায়েতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

১৭ অক্টোবর গাজার আল-আহলি হাসপাতালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে গুজব ছড়ায়। এমন বিভিন্ন গুজবের ফলেও জার্মানিতে বেড়েছে ইহুদিবিদ্বেষী আচরণ, জানাচ্ছে আরআইএএস।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ক্যানাডা ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলির বক্তব্য, তাদের গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলার সঙ্গে ইসরায়েল যুক্ত নয়।

৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা করলে ইসরায়েল জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান চালায় হামাসের বিরুদ্ধে। ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান জার্মানিতে বহু প্রতিবাদ-বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু জমায়েত থেকে ইহুদিবিদ্বেষী স্লোগান দেবার বা আচরণের খবর উঠে এসেছে।

আরআইএএস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেনিয়ামিন স্টাইনিৎজ বলেন, ‘ইসরায়েলের সামরিক বাহিনির কার্যকলাপের তুলনায় হামাসের প্রপাগান্ডামূলক প্রচারের বেশি প্রভাব পড়েছে জার্মানির এমন আন্দোলনের সংখ্যা ও পন্থার ওপর।’

বার্তাসংস্থা ডিপিএকে জার্মানির ইহুদি শিক্ষার্থী ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হানা ফাইলার জানান যে, এমন আন্দোলনের সংখ্যা চিন্তার কারণ হলেও তাকে অবাক করছে না। তিনি বলেন, ‘কীভাবে ৭ অক্টোবরের পর থেকে তরুণ ইহুদিদের দৈনন্দিন জীবনে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশেও ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিদিন বিকশিত হচ্ছে, তা তারা ক্রমাগতভাবে তুলে ধরছেন।’

ইত্তেফাক/এসএটি