রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

কোটালীপাড়ায় পরীক্ষা চলাকালে অর্ধশত শিক্ষার্থী অসুস্থ

৪১ জন হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:০০

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পূর্ব কোটালীপাড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধশত শিক্ষার্থী একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ৪১ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের ধারণা, চেতনানাশক স্প্রে করার কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। তবে, প্রাথমিকভাবে চেতনানাশক স্প্রের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সকাল ১০টায় বিদ্যালয়টির ষষ্ঠ, সপ্তম এবং নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পর সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মৌরিন মধু বমি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর একে একে ৪১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের অবস্থা গুরুতর হলে স্থানীয় অভিভাবক ও জনগণের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌরিন মধু জানায়, বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পরে হঠাত্ করে আমার মাথা ঘুরিয়ে বমি আসে। এরপর আমি বমি করতে করতে অচেতন হয়ে পড়লে শিক্ষকরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। একই শ্রেণির তৃষ্ণা দাস ও সাথী মধু জানায়, মৌরিনের অসুস্থতা দেখে আমরাও মাথা ঘুরে পড়ে যাই। পরে শিক্ষক ও অভিভাবকরা আমাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। শিক্ষার্থী মহিমা চৌধুরীর বাবা সুখ চৌধুরী বলেন, আমাদের ধারণা চেতনানাশক স্প্রের করে আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে অসুস্থ করা হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানতে চাই।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের এখানে চিকিত্সার জন্য যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে তারা চেতনানাশক কোনো ওষুধ বা স্প্রের কারণে অসুস্থ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে না। আমাদের ধারণা এটা হিস্টিরিয়া (আবেগোন্মত্ততা) জাতীয় কোনো বিষয় হবে। তবে, বিষয়টি আমরা পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছিলাম। তাদের সকল প্রকার চিকিত্সা ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি