দলের নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান হাতের চোটে রয়েছেন দলের বাইরে। এছাড়া সহঅধিনায়ক লিটন দাসও পারিবারিক কারণে ছুটি নিয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ থেকে।
তাতে করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই সিরিজের জন্য নতুন অধিনায়ককে বেছে নিতে হয়। দায়িত্ব গিয়ে পড়ে বর্তমান দলের টপওর্ডারের ব্যাটিং লাইনআপে ভরসার নাম হয়ে ওঠা নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে। আর সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করে নিলেন শান্ত। গড়ে ফেললেন আভিজাত্যের এই ক্রিকেট ফরম্যাটের অধিনায়ক হিসেবে এক অনন্য কীর্তি।
এছাড়া গতকাল সিলেটে টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করার মধ্য দিয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডেও তামিম-শাহরিয়ার-মুমিনুলের পাশে বসেছেন শান্ত।
চলতি বছর ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন শান্ত। সব ফরম্যাটেই দলের হয়ে দারুণ অবদান রাখছেন। এর মধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য বিভিন্ন ফরম্যাটে নেতৃত্বের ভার তার কাঁধে ওঠার পর তো আরো নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছেন। গেল মাসে শেষ হওয়া ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ওয়ানডে ফরম্যাটে টাইগারদের ১৬তম অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বারের মতো দলের নেতৃত্বের ভার পান তিনি।
আর অভিষেকেই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন শান্ত। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে অধিনায়কত্বের অভিষেকে ৭৬ রান করেছিলেন তিনি। ভেঙে দিয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে আমিনুল ইসলামের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকে করা ৭০ রানের ইনিংস। এবার টেস্ট ফরম্যাটে দায়িত্ব পেয়েও গড়লেন একই কীর্তি।
গেল জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন শান্ত। ঐ ম্যাচের দুই ইনিংসেই তিনি হাঁকিয়ে ছিলেন সেঞ্চুরি। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া কিউদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে টাইগারদের প্রথম ইনিংসে শান্তর সামনে সুযোগ ছিল সেঞ্চুরি হাঁকানোর। তৃতীয় উইকেটে ব্যাট হাতে নেমে ওয়ানডে মেজাজে দ্রুত রানও তুলছিলেন তিনি তবে ফিলিপসের এক ফুলটস বলে দৃষ্টিকটু ক্যাচে ৩৭ রানেই ফেরেন সাজঘরে। তবে গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আর তেমনটি তাকে দেখা যায়নি। ব্ল্যাকক্যাপস বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে মাটি কামড়ে লড়ে গেছেন গোটা দিন।
এদিন পড়ন্ত বিকালে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হতে আর কিছু সময়ই বাকি ছিল। তবে সে সময় স্বাগতিকদের ড্রেসিং রুমের বাইরে আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছিলেন খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফরা সবাই। সবার নজর মাঠে অধিনায়ক শান্তর দিকে। কারণ তরুণ এ ব্যাটার কীর্তি গড়তে তো আর মুহূর্তই বাকি ছিল। তিনিও জাদুকরী তিন অঙ্কের রান ছোঁয়ার জন্য কোনো তাড়াহুড়া করছিলেন। ধীরেসুস্থে ব্যাটিংয়ে নিজেকে স্থির রেখে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
কিউই স্পিনার এজাজ প্যাটেলের বল আলত টোকায় লং অনে পাঠিয়ে প্রান্ত বদল তার। ক্রিজ থেকে বেরিয়ে অর্ধেক আসার পরই হেলমেট খুলে হাতে নিয়ে নেন। রান পূর্ণ করার পর মেতে উঠেন উল্লাসে। প্রদর্শন করে নিজের চিরচেনা উদ্যাপন। শূন্যে লাফ দিয়ে, ব্যাটে চুমু খেয়ে মাতেন আনন্দে।
এই সেঞ্চুরিতে টাইগারদের সাদা পোশাকের ক্রিকেট ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বনে যান তিনি। তার আগের ১২ অধিনায়কের মধ্যে চার জন ৫০ পেরোলেও তিন অঙ্ক ছুঁঁতে পারেননি কেউ। এতদিন এই কীর্তি দখলে ছিল সাকিব আল হাসানের। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এছাড়া ফিফটি করা অন্য তিন জন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও লিটন কুমার দাস।
এছাড়া এদিন সেঞ্চুরি করার মাধ্যমে আরেকটি কীর্তি গড়েছেন শান্ত। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডে নিজের নাম লেখিয়েছেন তিনি। চলতি বছর ওয়ানডেতে দুটি ও টেস্টে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এত দিন ধরে এক পঞ্জিকাবর্ষে সমান চারটি করে সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল শাহরিয়ার নাফীস (২০০৬), তামিম ইকবাল (২০১০) ও মুমিনুল হকের (২০১৮)। এদের মধ্যে মুমিনুলের চারটি সেঞ্চুরিই ছিল টেস্টে।
তবে তার সামনে সম্ভাবনা রয়েছে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ারও। কেননা ডিসেম্বর মাসের এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই তাদের মাঠে খেলতে যাবেন টাইগাররা, সেই দলে কোনো রকম বিপত্তি না ঘটলে থাকবেন তিনি। তার আগে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট তো এখনো বাকি রয়েছে।
বাংলাদেশের টেস্ট নেতৃত্বে অভিষেকে
সর্বোচ্চ ইনিংস
নাজমুল হোসেন শান্ত ১০৫ প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড
সাকিব আল হাসান ৯৬* প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ
মাহমুদউল্লাহ ৮৩* প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা
মুশফিকুর রহিম ৬৮ প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ
লিটন কুমার দাস ৬৬* প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান
