বাড়তি আয়ের জন্য...

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৬

সংসারে কি বাড়তি আয় হচ্ছে? বাড়ি ভাড়া, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর সন্তানদের চাহিদা অনেককেই হয়তো ভাবিয়ে তুলছে। সাংসারিক নানা জটিলতায় হয়তো অনেক নারীই পারছেন না বাইরে কাজ করতে

সংসারের বাড়তি খরচের চিন্তাটা যেন সবসময় মায়েরাই করে থাকেন। আর সন্তানদের আবদার বাবার আগে মায়ের কাছেই পৌঁছে যায়। কিন্তু সংসারে কি বাড়তি আয় হচ্ছে? বাড়ি ভাড়া, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর সন্তানদের চাহিদা অনেককেই হয়তো ভাবিয়ে তুলছে। সাংসারিক নানা জটিলতায় হয়তো অনেক নারীই পারছেন না বাইরে কাজ করতে। না করতে পারাটা তো আর কোনো সমাধান হতে পারে না। এই একবিংশ শতাব্দিতে নারীকে বসে থাকার সময় শেষ। ঘরোয়া কাজ করে আমরা কীভাবে স্বাবলম্বী হতে পারি সে বিষয়ে জানাচ্ছেন শাহানা নিশা

অনলাইন ব্যবসা: কমবেশি আমরা সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সময় কাটাই। এই সময়টাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। সেটা পোশাক হতে পারে, গহনা হতে পারে, উপহার সামগ্রী হতে পারে এমনকি কসমেটিকসও হতে পারে। এই কাজটি করতে আমাদের প্রতিনিয়ত বাইরে থাকার প্রয়োজন হবে না। আমাদের দেশে অনেক নারীই এখন অনলাইন ব্যবসার সাথে যুক্ত হচ্ছেন।

পোশাক ডিজাইন: অনেকেই রং এর সাথে রং মিশাতে আর নিজের পোশাকে নতুন নতুন ভাবনা সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তুলতে পছন্দ করেন। ব্লক, বাটিক, হ্যান্ডপ্রিন্টসহ নানা রকম সুতার কাজ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা যায় নিজের পোশাকের ভাবনা। এই ডিজাইন করা পোশাকগুলো হতে পারে আপনার আয়ের উত্স। এছাড়াও বিভিন্ন শোরুমে জায়গা করে নিতে পারে আপনার ডিজাইন করা পোশাকটি।

হোম মেড ফুড: নারী মানেই যেন রাঁধুনি। রান্না করতে কমবেশি সব নারীই ভালোবাসে। এই রান্না হতে পারে আমাদের স্বাবলম্বী হবার একটি বড় মাধ্যম। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে ঘরে বানানো আচার, হালুয়া, পিঠা, বিস্কুট সরবরাহ করা হতে পারে বাড়তি আয়ের একটি বড় উত্স। চারপাশের এতো ভেজাল খাবারের মাঝে বাড়িতে তৈরি খাবার পেলে মানুষের খুব একটা মন্দ লাগবে না বরং ভালোই লাগবে।

পার্লার: সাজগোজের সাথে মেয়েদের একটা আত্মীক সম্পর্ক। কেউ সাজতে ভালোবাসেন কেউ বা সাজাতে। আর এই সাজটাকে কাজে লাগিয়ে আপনি হয়ে যেতে পারেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। তার জন্য একটা পার্লারের কোর্স করে আপনার বাসার গ্রাউন্ড ফ্লোরে আপনি ছোট একটা পার্লারের কথা ভাবতেই পারেন। অথবা আপনার ফ্ল্যাটে অতিরিক্ত ঘর থাকলে ছোট করে শুরু করা যেতেই পারে এই সাজানোর কাজটি।

ফটোগ্রাফি: কমবেশি আমাদের সবার ঘরেই এখন ক্যামেরা থাকে। কারণ আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছবি আপলোড করতে খুব পছন্দ করি। এই ক্যামেরাকে আমরা আমাদের আয়ের উত্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারি খুব সহজে। আমরা ঘরে বসে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করতে পারি বিভিন্ন অনলাইন শপের জন্য, করতে পারি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। আমরা মডেল ফটোগ্রাফি করতে পারি ঘরে স্টুডিও সেটের মাধ্যমে। এছাড়াও নানা ধরনের ইনডোরে ছবি তোলার কাজ আমরা ঘরে বসেই করতে পারি।

অনেকেই আছে বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে নাচ, গান, আবৃতি শিখেছেন। কিন্তু বাস্তবতার জীর্ণ বেড়াজাল ভেদ করে আর কোনো কিছুই করা হয়ে উঠেনি। তারা কিন্তু নিজের এই প্রতিভার আলো দিয়ে অন্যকে আলোকিত করতে পারেন খুব সহজে। আপনার বাসার বসার ঘরটি হতে পারে একটি শিক্ষালয়। এতে করে আপনার মনের আনন্দের সাথে সাথে নিজের অবস্থান আরো শক্ত এবং জোড়ালো হবে। এভাবেই নারী তার বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য এবং সাহসিকতা কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে শুধু অর্থনৈতিকভাবেই স্বাবলম্বী হবে না সাথে সাথে সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিত্বও ফুটিয়ে তুলবে।