মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

আরো ভালো কিছুর অপেক্ষা তাইজুলদের

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৫

দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়। তাও আবার ১৫০ রানের বড় ব্যবধানে। কিউইদের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে টাইগারদের দ্বিতীয় জয়। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, সহঅধিনায়ক লিটন দাস, অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল, তারকা পেসার তাসকিন আহমেদদের মতো দলের প্রথম সারির ক্রিকেটারদের ছাড়াই এমন ঐতিহাসিক জয়।

তারপরও তেমন একটা উদযাপন করতে দেখা গেল না টাইগারদের। কারণ সিরিজের আরেকটি টেস্ট বাকি যা আগামী ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরে। সবার ভাবনায় এখন সেই ম্যাচ ঘিরে পরিকল্পনা। সেখানে জয় তুলে নিয়েই সবাই উদযাপন করতে চান। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনটি জানান স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

সিলেট টেস্ট ব্ল্যাকক্যাপসদের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭০.১ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৮৪ রান খরচ করে ১০ উইকেট শিকার করেছেন তাইজুল। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। ঐতিহাসিক জয় পেয়েও কেন তাদের উদযাপন পরিমিত ছিল তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন আপনি অনেক বড় কিছু পাবেন তখন উদযাপন সব সময়ই হয়। আমরা যে আজকে উদযাপন করিনি তা নয়। অবশ্যই আমরা উদযাপন করেছি, মাঠের মধ্যে বা ড্রেসিং রুমে সব জায়গাতেই। কিন্তু একটা জিনিস কি আমরা ওটার জন্যই অপেক্ষা করতেছি যেন আরো ভালো কিছু পাই।’

৯ বছর ধরে তিনি জাতীয় দলে খেলছেন। দেশের মাঠে টেস্টে নিয়মিত পারফর্মও করছেন। ২০১৪ সালে তার অভিষেক থেকে এখনো পর্যন্ত তার চেয়ে বেশি টেস্ট উইকেট নিতে পারেননি বাংলাদেশের আর কেউ। এখন পর্যন্ত ৪৩ ম্যাচে ৭৬ ইনিংসে উইকেট নিয়েছেন তিনি ১৮৭টি। অন্যদিকে মিরাজ ৪০ ম্যাচে ৬৯ ইনিংসে পেয়েছেন ১৫৩ উইকেট। এ সময়ে সাকিব ৩২ টেস্ট খেলেছেন। হাত ঘুরিয়েছেন ৫৫ ইনিংসে। উইকেট পেয়েছেন ১১১টি।

তাইজুলের মতে, তার উত্তরসূরি হয়ে যিনি আসবেন; তিনিও পারফর্ম করবেন দলের হয়ে। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখানে আমি বার্তা বা বার্তা না এরকম কিছু বলব না। প্রত্যেকটা খেলোয়াড় সারা জীবন খেলবে না। একটাই আমার আশা থাকবে যে, যখন আমি থাকব না আমার জায়গায় যে আসবে সে পারফরম্যান্সটা করবে। যেই-ই আসুক যেন বাংলাদেশকে ভালো কিছু দিতে পারে।’

অভিজ্ঞ সাকিব-তামিম নেই দলে। তবে তাইজুলের সঙ্গে তাদের ম্যাচ জয়ের আগে কথা হয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে এই বাঁহাতি স্পিনার বলেন, ‘সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে কালকে ফোনে কথা হয়েছিল। সাকিব ভাই ফোন দিয়েছিলেন। তামিম ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তামিম ভাইয়ের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হয়। উনাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার বড় ভাইয়ের মতো ট্রিট করি।’

এদিকে এর আগেও তাইজুল এক বার এক টেস্টে ১০ বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছিল, ঐটাও এই মাঠেই। ২০১৮ সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। সব মিলিয়ে ১১ উইকেট তার ক্যারিয়ারের সেরা। যদিও ঐ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেনি।

তবে পাঁচ বছর পর আবারও সিলেটে এসে জ্বলে উঠলেন তাইজুল। কিউইদের দুই ইনিংসে ১০ উইকেট শিকার করলেন, সঙ্গে বনে গিয়েছেন জয়ের নায়ক। অবশ্য শুধু নায়ক বললেও ভুল হবে, সাকিব আল হাসানের অবর্তমানে তিনি এই ম্যাচে ছিলেন বোলিং আক্রমণের নেতা।

 

ইত্তেফাক/এএম