বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ইমুতে পরিচয়, স্বামীর খোঁজে এসে হতাশ ভারতীয় নারী

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৩২

প্রেম করে বাংলাদেশি তরুণের সঙ্গে বিয়ে হয় ভারতীয় তরুণী রিয়া বালার। কিন্তু বিয়ের মাসখানেক পর দেশে ফিরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন স্বামী। উপায়ন্তর না দেখে ফুলবাড়ি-বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পার করে স্বামীকে খুঁজতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন ভারতীয় এই তরুণী। কিন্তু স্বামীকে না পেয়ে হতাশ হয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রশাসনের সহযোগিতায় ফুলবাড়ি-বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পার করে হতাশ হয়েই দেশে ফিরে যান ভারতীয় তরুণী রিয়া। তার বাবা শ্যামল কান্তি বালা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের অম্বিকা কালনা এলাকায় বসবাস করেন।

সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমুতে রিয়া বালার সঙ্গে বাংলাদেশি তরুণ বিটু রায়ের প্রেমের সম্পর্ক হয়। বিটু রায়ের পৈর্তৃক নিবাস পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার দেবনগর ইউনিয়নের শিবচণ্ডী এলাকায়। তার বাবার নাম অখিল চন্দ্র রায়। তাদের এ সম্পর্ক পরবর্তীতে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। চলতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর ভারতের জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ থানার শিকারপুর এলাকায় পিসির (ফুপু) বাড়িতে রিয়া বালাকে বিয়ে করেন বিটু রায়। বিয়ের পর এক মাস ভাড়া বাড়িতে থাকেন তারা। তারপর দেশে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বিটু। পাশাপাশি বিয়ের কথাও অস্বীকার করতে থাকেন।

স্বামী বিটু রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় পাসপোর্ট-ভিসার করে গত ২৯ ডিসেম্বর ফুলবাড়ি-বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন হয়ে স্বামীর বাড়িতে যান ভারতীয় তরুণী রিয়া বালা। কিন্তু তার আসার খবর পেয়েই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বাংলাদেশি তরুণ বিটু রায়। তিনদিন শ্বশুরবাড়িতে থাকার পর স্বামীকে না পেয়ে নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগতে থাকেন তিনি। পরে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সোলেমান আলীকে বিষয়টি জানানো হয়। তারপর তিনি বিষয়টি ইউএনও ফজলে রাব্বিকে জানান। পরবর্তীতে ইউএনও নারী ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় দ্রুত সেখান থেকে তরুণীকে নিয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার নারী-শিশু সেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময় বিটুর বাবা অখিল চন্দ্রও উপস্থিত ছিলেন।

রিয়া বালা বলেন, ‌‘এখানকার প্রশাসন খুবই ভালো। আমি কলকাতাতেই থাকি। মাস্টার্স করেছি। ইমুতে তার (বিটু রায়) সঙ্গে আমার পরিচয় (হয়)। তারপর আমরা বিয়ে করি। আমি তাকেই চাই, তাকে নিয়ে সংসার করতে চাই। এখন তাকে না পেয়ে খুবই কষ্ট পাচ্ছি। আমাকে শূন্য হাতেই এক বুক কষ্ট নিয়ে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে।’

দেবনগর ইউপি চেয়ারম্যান সোলেমান আলী বলেন, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পর ওই তরুণী আমাকে ফোনে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালে আমি ইউএনওকে বিষয়টি জানাই। পরে ইউএনওর মাধ্যমে তাকে রাতে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় নারী ও শিশু সেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ছেলেটি পলাতক থাকায় তার পরিবারের কাছে মেয়েটিকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই তাকে দুপুরে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে সে দেশে ফিরে যায়। আশা করছি, ছেলের পরিবার তাকে ভারতে গিয়ে নিয়ে আসবে। ছেলেটির বাবা এমনই কথা দিয়েছেন।’

উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘যদিও মেয়েটির জন্য বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টের। কিন্তু ছেলেটি পালিয়ে থাকায় বিষয়টি সমাধানে এখনও আমরা অসমর্থ। তবে ছেলে ফিরে এলে তাকে নিয়ে ভারতের যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ছেলের বাবা। পরে প্রশাসনিকভাবে ওই ভারতীয় তরুণী দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আমরা বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে গিয়ে তার বোনের কাছে তাকে তুলে দিয়েছি।’

তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘শুক্রবার ইউএনওর মাধ্যমে তাকে থানায় নিরাপত্তার জন্য আনা হয়। তার স্বামী বিটু রায় পলাতক থাকায় তাকে প্রশাসনের সহযোগিতায় ইমিগ্রেশনে পৌঁছে দেওয়া হয়।’

তেঁতুলিয়ার ইউএনও ফজলে রাব্বি বলেন, ‘মোবাইলে ভারতীয় ওই তরুণী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সমাধানে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তবে অভিযুক্ত ওই যুবক পলাতক থাকায় বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ছেলের পরিবারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ছেলেকে খুঁজে বের করার। যেহেতু ওই তরুণী ভারতের নাগরিক, তাই তার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তাকে তার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এইচএ