বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)

৪৭ কোটি টাকার ঋণখেলাপি, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯:৩৩

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রথমদিনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) এবং কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই করা হয়। এ সময় ঋণখেলাপির দায়ে কক্সবাজার-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদ ও চার স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে কক্সবাজার-২ থেকে সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (৩ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহম্মদ শাহীন ইমরান।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত সালাউদ্দিন আহমেদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম, কমর উদ্দিন, শাহেনেওয়াজ চৌধুরী ও শামসুদ্দিন মো. ইলিয়াছ। সালাহউদ্দিন ছাড়া বাকি সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, কক্সবাজার-১ আসনে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। মনোনয়নপত্র দাখিল করা কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ পাঁচ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বাকি আটজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার-২ আসনে সাতজন প্রার্থীর কাগজপত্র সঠিক থাকায় সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে  মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ১৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বৈধ হওয়া ৮ জন হলেন- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. ইব্রাহীম, একই পার্টির সদস্য সচিব আব্দুল আওয়াল মামুন, জাতীয় পার্টির-জেপি এএইচ সালাউদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের বেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির আবু মো. বশিরুল আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলম, তার ছেলে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী তুহীন এবং জাতীয় পার্টির হোসনে আরা।

অপরদিকে কক্সবাজার-২ আসনে মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন-আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বর্তমান সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)'র মাহাবুবুল আলম, জাকের পার্টির মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. জিয়াউর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মো. ইউনুস, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. খায়রুল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) মো. শরিফ বাদশা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়ে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি কিছু ঋণের জামিনদার ছিলাম। যা পরে খেলাপি ছিল। কিন্তু আদালতের মাধ্যমে আমি অব্যাহতি পেয়েছি। সকল কাগজপত্র সঙ্গে দেওয়া আছে। তারপরও কেন যেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাতিল করেছে বুঝতে পারছি না। আমি নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করব।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ৪৭ কোটি টাকার ঋণখেলাপি হওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। জনতা ব্যাংক থেকে ‘ফিস প্রিজারভারস’ নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্য পরিচালকরা প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। যা পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন হলেও ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী সালাহউদ্দিন আহমদ এখনো সেই ঋণের একজন জামিনদার।

৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনও বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্ট অনুযায়ী সালাহউদ্দিন আহমদ একজন ঋণখেলাপি ছিলেন। তাই তার মনোনয়নপত্র আইন অনুযায়ী বৈধ বলার সুযোগ নেই বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, সোমবার (৪ ডিসেম্বর) কক্সবাজার-৩ ও ৪ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে।

ইত্তেফাক/এবি