বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

রাতে অন্ধ্র প্রদেশে আঘাত হানতে পারে ‘মিগজাউম’

  • কাল দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা    
  • আগামী সপ্তাহে শীতের তীব্রতা বাড়বে
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:০০

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম। ঘূর্ণিঝড়টি শক্তিসঞ্চয় করে অগ্রসর হচ্ছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমের দিকে। আজ সোমবার সকালে প্রবল শক্তিধর এই ঘূর্ণিঝড়টি বিজায়ওয়াড়া সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে স্থল ভাগে আঘাত হানতে পারে। অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্যের ওপর দিয়ে আবারও বঙ্গপোসাগরে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করছে আমেরিকার জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার। এটি বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার কোনো শঙ্কা নেই। 

তবে এর প্রভাবে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে দুই দিন উত্তর বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশ্লেষকরা জানান, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের বিপদসীমা থেকে দূরবর্তী অবস্থান দিয়ে অতিক্রম করার ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও মধ্যাঞ্চলে শুধুমাত্র মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ছাড়া আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই। ‘মিগজাউমে’র প্রভাবে আগামীকাল থেকে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে রাজশাহী ও রংপুরের দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সিলেটের দিকে সামান্য হতে পারে। এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে শীত বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে। বৃষ্টির পর আগামী সপ্তাহে দেশের সর্বত্রই শীতের আমেজ বাড়বে। 

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, ঘূর্ণিচক্রের সম্ভাব্য যে গতিপথ, তাতে বাংলাদেশের দিকে আসার শঙ্কা নেই। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানছে না।

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে এটি আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশের দিকে না এলেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। সাগর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় চারটি সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। এছাড়া মাছ ধরা ট্রলার ও সব ধরনের নৌকাগুলোর গভীর সাগরে বিচরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দেশের আকাশ অধিকাংশ এলাকায় মেঘলা থেকে মেঘাছন্ন থাকতে পারে। 

আবহাওয়ার ১২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

ইত্তেফাক/এমএএম