বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

কাঠগড়ায় নান্নু, সুমন, মুস্তাফিজ-লিটনরা

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৪৩

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে প্রথমবার ক্রিকেট বোর্ড সরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল গুলশানের ১ নম্বরের নাভানা টাওয়ারে। সেখানে অনেক দিন বিসিবির কার্যক্রম চলেছে বোর্ড সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী থাকাকালীন। পরে বোর্ড মিরপুরে চলে যায়। তারপর আর গুলশানের বিসিবির অফিসটি আলোচনা ছিল না। কাল বিকালে সেই পুরো বিসিবি অফিসটি আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার তদন্ত করতে বিসিবি তিন সদস্যের কমিটিকে গুলশানের অফিস খুলে দিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের ভিড় জমল সেখানে। আবার আলোচনায় সেই নাভানা টাওয়ার। বিসিবির তিন পরিচালক এনায়েত হোসেন সিরাজ, মাহবুবুল আনাম এবং আকরাম খানকে নিয়ে গড়া বিশেষ কমিটি বিশ্বকাপের ব্যর্থতা খুঁজে বরে করবে। চারদিন আগে গঠন করা কমিটি গতকালই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করল। তদন্ত কমিটির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন দুই ক্রিকেটার আর দুই নির্বাচক।

নির্বাচক কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, তারই সহকারী হাবিবুল বাসার সুমন, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমান, লিটন কুমার দাস। সবাই পালাক্রমে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়েছিলেন। ভেতর থেকে বেরিয়ে কেউ কথা বলেননি। সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে গেছেন। প্রশ্ন ছুঁড়লেও কোনো উত্তর ছিল না। ক্যামেরা তাক করা ছিল, কিন্তু কেউ মুখ দেখাতে রাজি না। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। যারা দুদকের ডাকে দুদকের অফিসে যান। কথা বলে বেরিয়ে এলে তারাও সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নে উত্তর দেন। কিন্তু খেলা সংক্রান্ত বিষয় হলেও তদন্ত কমিটির এবং কমিটির ডাকে আসা মানুষগুলো একটা শব্দ করতেও রাজি না। হন হন করে বেরিয়ে নিজ নিজ গড়িতে চেপে বসেছেন।

তদন্ত কমিটি কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দেবে—তা নিয়েও কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন সিরাজ কথা বলেননি। তিনি শুধু বলেছেন, ‘পালাক্রমে সবার সঙ্গে কথা বলবেন। যখন যাকে ডাকার প্রয়োজন মনে করবেন তখন তাকে ডাকবেন।’ রিপোর্ট কবে নাগাদ দেওয়া হবে—সেই প্রশ্নে এনায়েত হোসেন সিরাজ কোনো সময় উল্লেখ করেননি। নির্দিষ্ট সময় না বেঁধে কাজ হয়ে গেলে তারা একটা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট বোর্ডের কাছে পাঠাবেন।

বিশ্বকাপের ব্যর্থতা নিয়ে কার কী ভূমিকা ছিল—তার পুরোটাই জানবে কমিটি। সিলেকশন কমিটির প্রধান নান্নু এবং সুমন অবশ্য নিজেদের অবস্থানের পুরো ব্যাখ্যাটাই দিয়ে গেছেন তদন্ত কমিটির কাছে। দল সিলেকশনে কোথায় কী হয়েছে, কীভাবে হয়েছে—তা তুলে ধরেছেন সাবেক দুই ক্রিকেটার নান্নু এবং সুমন। কোচ হাথুরুসিংহের ভূমিকা, অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে অন্যান্য ক্রিকেটারদের দূরত্ব, দল গঠনে কোচ অধিনায়ক মিলে সলাপরামর্শ—যা কিছু আছে সবই জানতে চায় কমিটি। পুনরায় তাদেরকে আর ডাকার প্রয়োজন হবে না বলে মনে করছে কমিটি।

সম্প্রতি নতুন তথ্য, বিশ্বকাপের খেলা চলাকালীন দলের এক জন ক্রিকেটারকে লাঞ্ছিত  করেছেন কোচ হাথুরুসিংহে। কথাটা কতটুকু সত্য তা নিয়ে বিসিবি মুখ  খোলেনি, অস্বীকারও করেনি। এই ঘটনা দেশের ক্রিকেটকে আরও বিতর্কের মধ্যে ফেলেছে। তদন্ত কমিটি এটিও যাচাই-বাছাই করে দেখছে। আর এ নিয়ে একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদুর রহমানের পক্ষে ব্যারিস্টার আশরাফ রহমান বিসিবিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় ১২ অক্টোবর ভারতে অবস্থান কালে জাতীয় দলের হেড কোচ হাথুরুসিংহে ক্রিকেটার নাসুমকে চড় মারেন। গণমাধ্যমে এ তথ্য জানতে পারলেও বিসিবিকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি।’  

ইত্তেফাক/জেডএইচ