যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, বিশ্বস্ততায় বঙ্গবন্ধুর ছিল শেখ মণি, শেখ হাসিনার আছে যুবলীগ। শেখ ফজলুল হক মণির অনুসারী এবং সংগঠনের কর্মী হিসেবে আমরাও গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্য সর্বোচ্চ আত্মাহুতি দিতে গর্ববোধ করবে।
সোমবার (৪ ডিসেম্বর) যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি’র ৮৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে ২৩, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ শেখ মণিসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত হয়।
শেখ পরশ বলেন, শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি’র অনুসারী ও সহকর্মীদের ভাষায়- তিনি বাংলাদেশের বিপ্লবে সংগ্রামে এক অকুতোভয় নেতা ছিলেন। সন্তান হিসেবে আমি গর্ববোধ করি যে- তিনি দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য রণাঙ্গনেও সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। মুজিবাহিনীর শীর্ষনেতাদের মধ্যে তিনিই সবার আগে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন বলে জানা যায়। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই, ২৩ নভেম্বর জেনারেল উবানের নেতৃত্বে দেশের পূর্বাঞ্চলে শুরু হয় ‘অপারেশন ঈগল’। শেখ মণি বিএলএফের কয়েকজন সদস্য নিয়ে তাদের সঙ্গে ‘অপারেশন ঈগলে’ যোগ দিয়ে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন। জেনারেল উবানের বর্ণনায়- ‘অদম্য সাহসের অধিকারী স্থিরপ্রতিজ্ঞ শেখ মণি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ ভূমিতে আসল যুদ্ধের সময় আমার সঙ্গে ছিলেন। তিনি শুধু নেতা না, তিনি সর্বোপরি একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। আমাদেরও নেতা হওয়ার আগে সর্বপ্রথম কর্মীদের কাতারে যেয়ে কর্মী হতে হবে।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, জেনারেল উবান আরও লিখেছেন- ‘হালকা পাতলা গড়নের মানুষটি যেন এক জ্বলন্ত মশাল। তাদের স্বাভাবিক নেতা বলে মনে হত তাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন এবং যেকোনো আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
তিনি বলেন, শেখ মণি ছিলেন আন্তরিক, বন্ধুদের প্রতি সংবেদনশীল, আর শেখ মুজিবের একান্ত অনুরক্ত ভক্ত। প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর একটা প্রধান শক্তির নাম শেখ ফজলুল হক মণি। শেখ মণি বেঁচে থাকলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা অসম্ভব হয়ে যেত; এটা ওই ’৭৫-এর খুনিরা ভালভাবেই জানতো। তাই তারা শেখ মণিকেই প্রথমে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তিনি আরও বলেন- শেখ মণি আমাদের কাছে বিশ্বস্ততারও প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, শেখ মণি যেভাবে উপলব্ধি করতেন যে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারসম্পন্ন জাতিরাষ্ট্র নির্মাণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নাই, ঠিক একইভাবে শেখ মণি’র উত্তরসূরি হিসাবে আমরা আজকের যুবলীগ মনে করি, একটি অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, উন্নয়নশীল ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নাই।
শেখ পরশ বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, যুব রাজনীতির মহাপ্রাণ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিক, লেখক ও সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মণি বাংলার ইতিহাসের সংগ্রাম ও সাফল্যের অসংখ্য অকাট্য দলিল রচনা করে গেছেন মাত্র ৩৫ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে। তার লেখনী থেকে একটা ধারণ করা যায় যে- তিনি বাংলাদেশে একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রগতিশীল, বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা সৃষ্টির বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে আজকের প্রেক্ষাপটে আমাদের ভিন্নি ধরণের যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে। তাই আজ যুবলীগের মূল কাজ দুইটি- একটি রাজনৈতিক এবং আরেকটি সামাজিক। রাজপথে যেমন যুবলীগ, প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করছে, তাদের জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমুন্নত রাখা ও রক্ষা করার প্রশ্নেও সোচ্চার থাকতে হবে। একইসঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সামাজিক ন্যায়বিচার কায়েম করা, ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করা এবং যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করা। যুবসমাজের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং আমাদের নেত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মানবিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা আমাদের কর্তব্য। সংগ্রামে যুবলীগে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে, বিজ্ঞানভিত্তিক সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে নেতৃত্ব দেবে।
তিনি বলেন, বাঙালি শিল্প, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যের বিকাশ ঘটবে। একটা প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ, মর্যাদাশীল, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ শেখ মণি দেখতে চেয়ছিলেন । যে বাংলাদেশ শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান চর্চায় সারা বিশ্বে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। যেখানে সুশাসন কায়েম থাকবে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আরও বক্তব্য রাখেন-ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, মো. জসিম মাতুব্বর, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. জহির উদ্দিন খসরু, মো. সোহেল পারভেজ, মশিউর রহমান চপল, এ্যাড. ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহরুল ইসলাম মিল্টন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মো. শামছুল আলম অনিক, স্বাস্থ্য জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. ফরিদ রায়হান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মীর মো. মহিউদ্দিন, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. হারিছ মিয়া শেখ সাগর, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মো. হেমায়েত উদ্দিন মোল্লা, উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হাসান সুপ্ত, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. আবদুর রহমান, উপ-কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মোল্লা রওশন জামির রানা, উপ-ধর্ম সম্পাদক হরে কৃষ্ণ বৈদ্যসহ কেন্দ্রীয় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতারা।
