বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

একাদশে বেশি পরিবর্তন আনতে চান না কোচ

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৪৫

দেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি টাইগারদের সামনে। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পারলেই সারা পোশাকে প্রথম বারের মতো সিরিজ জয়ের র্কীর্তি গড়তে পারবে টাইগাররা। সেই লক্ষ্যেই মিরপুরে নামবে টাইগাররা।

তবে এই কীর্তি গড়তে স্বাগতিকদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তাদের নিজেদের উইকেটই। কারণ শের-ই-বাংলার উইকেট বেশ রহস্যে ঘেরা। এর আচরণ বোঝা সহজ বিষয় নয়—এমনটি নানা সময়েই বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রিকেটাররা জানিয়েছিলেন। বুধবার মাঠে নামার আগে ঠিক সে কথাই জানিয়েছেন টাইগার হেড কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে।

গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হিসেবে এসে টাইগার হেড কোচ মিরপুরের উইকেট নিয়ে বলেন, ‘মিরপুরের পিচ কেমন আচরণ করবে, তা বুঝতে হলে কয়েক সেশন অপেক্ষা করতে হবে। বলেন, ‘মিরপুরে কয়েক সেশন খেলার আগে পিচ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। এখানে অনেক বেশি খেলা হয়। আমার মনে হয় না মিরপুরের মতো বিশ্বে আর কোনো স্টেডিয়ামে এত খেলা হয়। আমরা অনুমান করতে পারছি না এখানে কী হতে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করব বেশি কিছু পরিবর্তন না নিয়েই মাঠে নামতে।’

এ সময় দ্বিতীয় ম্যাচের স্কোয়াড ধোঁয়াশায় রেখে তিনি বলেন, ‘খুব বেশি তথ্য দিতে চাই না। কারণ নিউজিল্যান্ড এটা জেনে যাবে বা পড়ে ফেলতে পারে। একাদশ নির্ভর করছে কন্ডিশন, পিচ, আমাদের সামর্থ্য আর নিউজিল্যান্ডের সীমাবদ্ধতার ওপর। আমরা সিলেটে অনেক দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। পাঁচ দিন দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কন্ডিশন এবং আমাদের শক্তি অনুযায়ী একাদশ সাজিয়েছি।’

এদিকে গেল কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেস ইউনিট ডিপার্টমেন্ট ঘরের মাঠে দারুণ পারফর্ম করছে। তাসকিন, এবাদত, শরীফুল, হাসান মাহমুদরা নিজেদের সামর্থ্য প্রদর্শন করলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ শুধু একটি পেস বোলার নিয়ে নেমেছিল।

দ্বিতীয় ম্যাচেও দল এমনভাবে সাজানো হবে কি না, কোচের কাছে জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ক্রিকেট বুঝে থাকেন, তাহলে বুঝবেন যে দলটা কন্ডিশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সঙ্গে প্রতিপক্ষের দুর্বলতার কথা মাথায় রেখে টেকটিক্যালি বিষয়টা সামলানো হয়। শেষ ম্যাচটা আমরা এখানে খেলেছি আফগানিস্তানের বিপক্ষে, সেটা ভিন্ন পিচ ছিল... তখন প্রস্তুতির জন্যও অনেক সময় ছিল। এছাড়া শিডিউলেও কোনো ক্রিকেট ছিল না। তাই পিচটা তৈরি করার সুযোগ ছিল। এজন্য আমরা তিন পেস বোলার নিয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যদি আপনার মনে থাকে, এর আগের ম্যাচটা ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, যেখানে উইকেটটা ভিন্ন ছিল। তবে বিষয়টা হচ্ছে, আমাদের এখন সব ধরনের দক্ষতা আছে। সেটা এখন যেমন ইচ্ছা আমরা ব্যবহার করতে পারি। সেটা এখন দলের জন্য বেশ ভালো।’

সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের পর স্বাগতিক ক্রিকেটারদের তেমন কোনো উল্লাস করতে দেখা যায়নি। পরে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছিলেন, তাদের অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে, এখনো অর্ধেক বাকি রয়েছে। তার ঐ কথায় স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল যে টাইগারদের লক্ষ্য কিউইদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের স্বাদ নেওয়ার। তাই প্রথম ম্যাচ জয়ের পর ক্রিকেটাররা আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন কি না, দ্বিতীয় ম্যাচের আগে জানতে চাওয়া হয় হেড কোচের কাছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি দলের মধ্যে কোনো আত্মতুষ্টি দেখি না। যদি তেমন কিছু দেখি, আমি নিজে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলব। গতকাল ড্রেসিংরুমের ভেতরে আমাদের ভালো সময় ধরে কথা হয়েছে। মুশি (মুশফিকুর রহিম) ও মুমিনুলের (হক) মতো শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ নেতারা খুব আবেগী হয়ে কথা বলেছে। তারা বাংলা বলেছে, তাই আমি বুঝতে পারিনি। ড্রেসিংরুমে কোনো আত্মতুষ্টি নেই।’

 

 

ইত্তেফাক/এএম