শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকে বৈধ বলছে ইসরায়েল

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৩:৪৬

গাজার সর্বত্র এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েল বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যেতে বলেছে। যদিও নিজেরাই স্বীকার করেছে খুব বেশি নিরাপদ স্থান নেই। কিন্তু কিছুই করার নেই। জাতিসংঘও জানিয়েছে, গাজায় এমন কোনো স্থান নেই যেটা নিরাপদ এবং বাসিন্দারা বাস করতে পারেন। এরই মধ্যে ২২ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ১৯ লাখই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজায় এখন প্রিয়জনের লাশ খোঁজার চেয়ে খাবার পাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাসিন্দারা। এদিকে গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকে কৌশলে বৈধতা দিচ্ছে ইসরায়েল। হামাস নেতাদের হত্যা করতে টানেল সমুদ্রের পানি দিয়ে ভাসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি বাহিনী।

গাজায় বেসামরিক নাগরিক হত্যা বৈধ? 

গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এদের ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু। কিন্তু এসব নাগরিককে কৌশলে বৈধ বলছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় প্রত্যেক হামাস সদস্যের জন্য দুই জন করে বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, এই অনুপাত খুব একটা খারাপ নয়। এখন আমরা দুই অনুপাত এক এ আছি। তিনি বলেন আশা করছি এই অনুপাত কমে আসবে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জনাথান কনরিকাস মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, গাজায় প্রত্যেক হামাসের বিপরীতে দুই জন করে বেসামরিক নাগরিক হত্যার বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা খুবই ইতিবাচক। হাসামের বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে থাকা এবং তাদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামাসের ৫ হাজার সদস্য নিহত হওয়ার খবর ঠিক কিনা জানতে চাইলে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন,সংখ্যাটি কমবেশি ঠিক।

মানচিত্র দিয়ে সরতে বলছে ইসরায়েল

গোটা গাজা ভূখণ্ড জুড়েই আক্রমণ করছে ইসরায়েল। খান ইউনিসের ২০টি এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বলেছে তারা। ইসরায়েলের সেনা দক্ষিণ গাজার বাসিন্দাদের বলেছে, তারা যেন প্রতিদিন অনলাইনে দেখে নেন, কোথায় আক্রমণ করা হবে। সেইমতো তারা যেন নিরাপদ জায়গায় চলে যান। প্রতিদিন ইসরায়েলের সেনা অনলাইনে এই তথ্য জানিয়ে দিচ্ছে। যদিও জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২২ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ১৯ লাখই এখন বাস্তুচ্যুত। উপত্যকার সবস্থানেই এখন ধ্বংসের চিহ্ন। ফলে নিরাপদ জায়গা বলতে কিছু নেই। এমনকি হাসপাতালগুলোও এখন নিরাপদ নয়। সেখানেও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে আলাদা দুটি স্কুলে হামলা চালায় ইসরাইল। এতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। জানা গেছে, স্কুল দুটিতে বাস্তুহারারা আশ্রয় নিয়েছিল। সোমবার সেখানে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। গাজা ভূখণ্ড জুড়ে মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে থাকা হামাসের টানেল ধ্বংস করতে নতুন পন্থা নিয়েছে ইসরায়েলি সেনা। টানেলগুলোকে সমুদ্রের পানি দিয়ে ভাসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। সোমবার মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ই নাকি উত্তর গাজার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের কয়েক কিলোমিটার উত্তরে বড় বড় পাঁচটি পাম্প বসিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। যে পাম্পগুলোর মাধ্যমে ঘণ্টায় কয়েক হাজার কিউবিক মিটার পানি বের হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক, প্রথমে হামাসের টানেলগুলোকে চিহ্নিত করা হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্রের জল হামাসের টানেলগুলোতে পানি প্রবেশ করানো হবে। 

সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা ও সিএনএন

ইত্তেফাক/এমটি