চলতি বছরের শুরু থেকে দারুণ ছন্দ প্রদর্শন করে আসছিল বাংলাদেশ। প্রতিটি খেলোয়াড়ের পারফর্ম্যান্স দেখে মনে হচ্ছিল ভারতে ১৩তম বিশ্বকাপে স্মরণকালের সেরা কিছু করতে চলেছে বাংলাদেশ। সমর্থকেরাও সেই আশায় বুক বেঁধেছিল। তবে বিশ্বকাপে গিয়ে বাজেভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে টাইগাররা।
এতে করে দেশ জুড়ে শুরু হয় ক্রিকেটারদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। হতাশার আসর কাটিয়ে দেশে ফিরেই আবার নামতে হয় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে। আর তাতেই নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বের দল ঘটিয়ে ফেলে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ছাড়াই দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা পোশাকে তুলে নেয় জয়।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১৫০ রানে কিউইদের হারান শান্তরা। এতে করে কিছুটা উচ্ছ্বাসও ফিরেছে দেশের ক্রিকেটে। এই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামীকাল। এই ম্যাচে জয় পেলেই প্রথমবারের মতো সফরকারীদের বিপক্ষে সাদা পোশাকে সিরিজ জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করবে টাইগাররা। আর এমন কিছু হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির পক্ষ থেকে বড় বোনাস পাবে ক্রিকেট দল।
সিরিজের শেষ ম্যাচে আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। আর এই ম্যাচের আগে গত পরশু রাতে ক্রিকেটারদের ডিনার করান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখান থেকে বেরিয়েই তিনি জানান ক্রিকেটারদের সিরিজ জয়ের পর বোনাস দেওয়ার বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘বোনাসের কথা বলে নাই, ওরা শুনতে চেয়েছিল। একদম আসার সময় একজন বলেছিল (বোনাসের ব্যাপারে)। আমি বলেছি, এটা তো সিরিজ জিতলে পাবে। সিরিজ জিতলে অনেক বড় (অঙ্কের) পাবে, এটাতে কোনো সন্দেহ নেই।’
এ সময় সিলেট উইকেটের প্রশংসা করেন বিসিবি সভাপতি, সঙ্গে এ-ও বলে দেন, আগের ম্যাচের উইকেট আর মিরপুরের উইকেট দুটি ভিন্ন। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ সিলেটে হয়েছে, যেখানের উইকেটটা ভালো ছিল। এখানে আমাদের কিউরেটরের দায়িত্বে কে ছিল আপনারা জানেন, দুনিয়ার অন্যতম সেরা সে (টনি হেমিং)। ওখানে ব্যাটারদের জন্য ছিল, স্পিনারদের জন্য ছিল, পেসারদের জন্যও ছিল, বাউন্সও ছিল, সবই ছিল। এরকম সাধারণত আমরা দেখি নাই। এর আগে কিন্তু এরকম উইকেট দেখিনি, এটা স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু পরেরটা হচ্ছে মিরপুর। এখানকার উইকেটের মতো আনপ্রেডিক্টেবল উইকেট তো আর নেই। এখানে ড্র করার সম্ভাবনা নেই (ফলাফল জয়, নয়তো হার হবে)।’
দীর্ঘদিন ধরেই মিরপুরের উইকেট ক্রিকেটারদের জন্য আদর্শ নয় বলে অভিযোগ উঠে আসছে। বিভিন্ন সময়ে ক্রিকেটাররাও হতাশ হয়ে ভালো উইকেটে খেলার কথা জানান। এত সব আলোচনা-সমালোচনার পরও কোনো পরিবর্তন হয় না মিরপুরের উইকেটের। যদিও বিসিবি সভাপতি জানান, এই উইকেটে এর থেকে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। বলেন, ‘আমরা আইসিসি থেকেও নিয়ে এসেছি, (কিউরেটর) বিভিন্ন জায়গা থেকেও নিয়ে এসেছি এক্সপার্ট। সবাই বলছে যে এইখানটায় যা করছে, এর থেকে বেশি সম্ভব নয়। খামাখা জোর দিয়ে একজনের ওপর দোষ চাপিয়ে তো লাভ নেই। আমাদের এইখানে যেই পরিমাণ বিশ্রাম (উইকেটকে) দেওয়া দরকার, তা আমরা দিতে পারি না এইটা হলো প্রথম কথা। এত ম্যাচ খেললে উইকেট ভালো রাখতে পারবেন না, নম্বর টু।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি এক বছরের একটা বিরতি পাই, তাহলে আমরা মিরপুরের উইকেটটাকে ঠিক করে ফেলতে পারব। তবে আমরা তো এক বছর দূরে থাক, এক মাসেরও বিরতি দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। ডমেস্টিক ক্রিকেটও খেলাতে হয় আমাদের মিরপুরে। এই জিনিসগুলো আপনাদের মাথায় রাখতে হবে। তবে সামনে হয়ে যাবে আসা করি।’
