ওরা দেখে যুক্তির আলোয়

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৮

  নাছিমা খাতুন

 

দেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক লক্ষ। এর মধ্যে প্রতিবছরই কয়েক হাজার দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে  কর্মজীবনে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরেও শুধুমাত্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে প্রায় সকলক্ষেত্রেই নানা বৈষম্যের শিকার হতে হয় তাদের।   আর তাই একটি চাকরি তাদের কাছে সোনার হরিণের  মতো মনে হয়।

প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে গিয়ে এই সত্যই আমরা জানতে পেরেছি। আমরা আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে দেশের বিত্তবানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাতে চাই এই বলে যে, আপনারাও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন।  

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তথা প্রতিবন্ধীদের নানা সমস্যার কথা মাথায় রেখে দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজনের ভাবনাটা শুরু হয় এ বছরের শুরুতে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির এক ঝাঁক আত্মনিবেদিত অন্তপ্রাণ সহযোদ্ধাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শুধু দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করি ‘যুক্তির আলোয় দেখি’ শিরোনামে এই জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এই আয়োজনের আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক যোগাযোগে বুঝতে পারি এ ধরনের আয়োজনে অনেক বাধা-বিপত্তি রয়েছে। এরপরও আমরা বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি। শুরু হয় আয়োজনের পথ চলা। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির অফিসে দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে শুরু হয় আবাসিক গ্রুমিং। ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিতার্কিকদের অফিসেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ডিএফডির তরুণ প্রশিক্ষকরা এক আনন্দমুখর পরিবেশে তত্ত্ব-তথ্য থেকে শুরু করে উপস্থাপন, শব্দচয়ন, শ্রুতিলিখন—এ সববিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজ, পাবনার শহীদ বুলবুল কলেজের মোট আটটি বিতার্কিক দল। 

চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল প্রতিযোগিতার একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন। এক পর্যায়ে তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিতার্কিকদের মধ্যে থেকে কয়েকজনের জন্যে দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন। সম্প্রতি ইডেন কলেজের তিন জন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীর চাকরি প্রদানের সম্মতিপত্র প্রদান করবেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করা সেই তিন শিক্ষার্থী হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পারভীন আক্তার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের রিপা তাবাসসুম এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পারুল বেগম। আজ তাঁরাও এখানে উপস্থিত রয়েছেন জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায়ের সূচনার সারথী হয়ে।  

শুধু পারভীন, রিপা আর পারুল নয়, আজকের এই অনুষ্ঠান দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এক অনুপ্রেরণা ও এগিয়ে যাওয়ার দিন। আজকে সূচিত হলো নতুন এক অধ্যায়। বিশিষ্ট অভিনেতা ও ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল আজ তিনজন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীর হাতে এবি অ্যাপারেলস লি. এবং পলো কম্পোজিট নিট ইন্ডাস্ট্রি লি. চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আমরা মনে করি আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবান মানুষ দৃষ্টিহীনদের কর্মসংস্থানে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এটি কেবলই শুরু, এই ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে। খুব দ্রুতই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন সহ আরো কয়েকজনকে চাকরি প্রদানের ঘোষণা ও প্রদান করেন তিনি এ অনুষ্ঠানে।