জাহাঙ্গীরের মানবতার দেয়াল

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪০

>> ছাইফুল ইসলাম মাছুম

 

দেয়ালের হ্যাঙ্গারে ঝুলানো প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জি, শীতের কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়। দেয়ালে লেখা আছে ‘আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান, প্রয়োজনীয় জিনিস এখান থেকে নিয়ে যান’। কেউ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিজের অতিরিক্ত দুয়েকটি কাপড় এখানে রেখে যান। আবার অন্য কেউ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজন বোধে এখান থেকে একটি-দুটি কাপড় নিয়ে যান। এমন অভিনব উদ্যোগের নাম দিয়েছেন ‘মানবতার দেয়াল’। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা সীমান্ত এলাকায় মানবতার এ দেয়াল গড়ে তুলেছেন স্থানীয় যুবক জাহাঙ্গীর মাহমুদ।

মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা নেত্রকোনার দুর্গাপুর। পাহাড় ঘেরা জনপদ হওয়ায় শীতের প্রকোপ চলে আসে একটু আগে ভাগেই। প্রচণ্ড শীতে অসহায় হয়ে পড়েন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল মানুষজন। আসছে শীতে এরকম সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল মানুষের সমস্যা লাঘবের লক্ষ্যেই গত ১৫ নভেম্বর জাহাঙ্গীর মাহমুদ দুর্গাপুর পৌরসভার শিবগঞ্জ বাজারের মসজিদ মার্কেটের একটি দেয়ালে গড়ে তুলেছেন মানবতার দেয়াল। উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন এলাকার লোকজন। বাসার অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এখন স্থান পাচ্ছে ‘মানবতার দেয়ালে’।

জাহাঙ্গীর মাহমুদ সম্প্রতি সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাস করেছেন। পড়াশোনা শেষে কোনো চাকরিতে না গিয়ে শুরু করেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বাবা ইদ্রিস আলী সরকার একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সমাজের উন্নয়নের কাজ করে আসছেন।

‘মানবতার দেয়াল’-এর আইডিয়া কীভাবে এলো জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর মাহমুদ বলেন, ‘আমি বাজার থেকে ব্যাগ তৈরির জন্য পুরান প্যান্ট কিনতে গিয়ে মানুষের ভিড় দেখি। এসময় মাথায় এলো পুরাতন কাপড়গুলো কীভাবে অন্যদের দেওয়া যেতে পারে। আমরা হেলায় বা অলসতার কারণে কাউকে দান করতে পারি না। আবার কাকে দিব, দিতে গেলে সে নেয় কি না, কাপড়টা দিয়ে তাকে ছোট করা হবে কি না এরকম বিভিন্ন প্রশ্ন আমাদের মনে আসে। কিন্তু যদি এটাকে এমন একটা জায়গায় রাখা যায় তাহলে সেখানে সবাই নিজের ইচ্ছামতো অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যাবে আবার প্রয়োজনীয় যেকোনো জিনিস নিতেও পারবে। এখানে কাউকে কারো মুখোমুখি হতে হবে না। তাই এর নাম রেখেছি ‘মানবতার দেয়াল’।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ইচ্ছা এটাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া। আমাদের আশপাশের গরিব অসহায় মানুষগুলো যেন কাপড়ের জন্য বিশেষ করে শীতের কাপড়ের জন্য কষ্ট না করে, সেজন্যই এই উদ্যোগ। শুধু কাপড় নয়, অনেকে জুতাও রেখে যান এবং অন্য কেউ সেটা নিয়েও যান।’

অল্প সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মানবতার দেয়াল’। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে খুব দ্রুতই ভাইরাল হয়েছে ‘মানবতার দেয়াল’। এমন অভিনব আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানবতার দেয়াল গড়ে তুলেছে অনেক সামাজিক সংগঠন ও উদ্যমী তরুণেরা। জাহাঙ্গীরের উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা, পুরান ঢাকার লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাব, কুলাউড়ার ফেসবুকভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘কুলাউড়া সমস্যা ও সম্ভাবনা ফেসবুক গ্রুপ’, খুলনার নতুন রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে ওয়াব নামের সংগঠনের ব্যানারে গড়ে উঠেছে ‘মানবতার দেয়াল’।