বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জনদুর্ভোগ

২১ কি.মি. সড়কে ‘ইচ্ছে-খুশি’র ৬৮ স্পিড ব্রেকার!

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৮:৫২

কক্সবাজারের 'খুরুশকুল-চৌফলদন্ডী-ঈদগাঁও' আঞ্চলিক মহাসড়কের দূরত্ব মোটে ২১ কিলোমিটার। স্বল্প দূরত্বের সড়কটি অতিক্রম করে কক্সবাজার জেলা শহরে ঢুকতে বা জেলা শহর থেকে বের হয়ে ঈদগাঁও পৌঁছাতে অতিক্রম করতে হয়ে ছোট-বড়-মাঝারি ৬৮টি স্পিড ব্রেকার (গতিরোধক)। অপরিকল্পিত এসব স্পিড ব্রেকারে একদিকে যেমন গাড়ির গতি কমছে, অন্যদিকে বেকায়দায় পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও রোগীরা।

সরকারের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক ও মহাসড়কে যাচ্ছেতাই স্পিড ব্রেকার বসানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রয়োজন হলে সওজ বিশেষ কায়দায় সড়কে স্পিড ব্রেকার বসায়। কিন্তু 'খুরুশকুল-চৌফলদন্ডী-ঈদগাঁও' সড়কের ক্ষেত্রে ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা। সংশ্লিষ্টদের তদারকির অভাবে এ সড়কে নিজেদের বাড়ির সামনে 'যে যার মন মতো' বসিয়েছে স্পিড ব্রেকার।

জানা যায়, ঈদগাঁও থেকে জাতীয় মহাসড়ক দিয়ে কক্সবাজার শহরের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। এ মহাসড়কে যানচলাচল ও দূরত্ব অপেক্ষাকৃত বেশি। তাই প্রায় অর্ধেক দূরত্ব, সহজ ও নিরাপদ যাতায়াতে জন্য আশপাশের ১০-১২টি ইউনিয়নের লাখো যাত্রী কক্সবাজার যাতায়াতে ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল সড়কটি ব্যবহার করেন। প্রায় দু'দশক আগে চৌফলদন্ডী ও বাঁকখালীতে ব্রিজ বসানো ও সড়ক পাকা হওয়ার পর সড়কটিতে যানচলাচল বেড়েছে। এরপরই বেড়েছে সড়কে স্পিড ব্রেকারে বসানোর প্রতিযোগিতা।

সরেজমিন দেখা যায়, এ সড়কে কোনো ধরনের সতর্কতা চিহ্ন ছাড়াই বসানো হয়েছে অসংখ্য স্পিড ব্রেকার। সড়কের পাশে কেউ নতুন বাড়ি করলেও বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্পিড ব্রেকার। বসানো হয়েছে হাট-বাজার, দোকান এমনকি চা-দোকানের সামনেও। এসব অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারে প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। 

এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, এ সড়কে সাধারণত মোটরসাইকেলে ১৫-২০ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ঈদগাঁও পৌঁছে যাবার কথা। কিন্তু সেখানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। যানজটে তা মাঝে মধ্যে দেড় বা দুই ঘণ্টায়ও গড়ায়। 

নাছির নোমানী বলেন, ঈদগাঁও, পোকখালী, ইসলামপুর, ইসলামাবাদ, জালালাবাদ, চৌফলদন্ডী, খুরুশকুল, পিএমখালী, ভারুয়াখালী, খুটাখালী ইউনিয়নের সবাই স্পিড ব্রেকার সমস্যায় অতিষ্ঠ। 

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিন কিশোর বলেন, সড়কে যত্রতত্র স্পিড ব্রেকার তৈরি বেআইনি। কিন্তু প্রয়োজনের নিরিখে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় স্পিড ব্রেকার সওজের নিয়মে বসানো যায় এবং সেখানে অবশ্যই সতর্ক চিহ্নও দিতে হয়। যাতে দিনের বেলার পাশাপাশি রাতের আঁধারে দূর থেকে দেখে চালক গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ সড়কে এ নিয়ম মানা হয়নি বলে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। 

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফীন বলেন, ব্যক্তি বিশেষ চাইলেই সড়কে স্পিড ব্রেকার বসাতে পারেন না। ইতোমধ্যে মহেশখালীর গোরকঘাটা সড়কে বসানো স্পিড ব্রেকার তুলে ফেলা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল সড়কে অসংখ্য স্পিড ব্রেকার বসানোর বার বার অভিযোগ পেলেও ফান্ড না থাকায় তা তুলে ফেলার উদ্যোগ নিতে পারিনি। শিগগিরই এলাকা ভিত্তিক বসানো স্পিড ব্রেকার তুলে প্রয়োজনীয় জায়গায় সওজের নিয়মে আমরা বসাবো এবং সতর্ক চিহ্নও দেব। এরপর কেউ ইচ্ছে মতো স্পিড ব্রেকার বসালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি