বাদল দিনে নীলের ছোঁয়া

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ১৯:৫২

মেঘ বুকে নিয়ে আকাশ যেমন ধরিত্রীতে জলের বর্ষণ ঘটায়, তেমনি আমাদের মানবজীবনেও বর্ষার ছোঁয়া বয়ে আনে স্নিগ্ধ সুখের পরশ। প্রকৃতির পরম উপহার ছয়টি ঋতুই আসে রঙের ভিন্নতা নিয়ে। আর বর্ষার কাছেই খুঁজে পাওয়া যায় গাঢ় রঙগুলোর সান্নিধ্য। ঝমঝম নির্লিপ্ত বর্ষা ঝরা দিনে একফালি সবুজ বুঝি না হলেই নয়। বৃষ্টিধোয়া আকাশ যখন হেসে ওঠে হূদয়গ্রাহী নীলে নিপুণ খুনসুটিতে, তখন যাপিত জীবনে নেমে আসে স্বস্তির আঁচ। কাদামাখা গ্রাম-কিশোরীর কাছে নীল পাড়ের একখানা শাড়ি হয়তো উপাসনার বস্তু, কিন্তু শহুরে তরুণী এই বর্ষায় ঠিকই বেছে নেন তথাকথিত ক্রিয়েটিভ ফ্যাশন কিংবা নান্দনিক স্টাইলের কোনো বসন। বৃষ্টির দিনে এই রঙের খেলা নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী

বর্ষার স্নিগ্ধতা নগর জীবনকে যতটা ছুঁয়ে যায়, তার থেকে অনেক বেশি ছুঁয়ে যায় গ্রাম বাংলাকে। সেখানে বর্ষা মানের খাল-বিলে নতুন পানি। সবুজ জলে ভেসে ওঠে নীল আকাশের ছবি। আর শহর জীবনে বর্ষার বর্ষণ হয়তো ব্যস্ত জীবনে কিছুটা ছন্দপতন ঘটায়। কিন্তু ফ্যাশন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই ভাসে বর্ষায় স্নাত নীল রঙের ভেলা। নীল শুধু পোশাকে নয়, ভরা বর্ষায় নীল ছুঁয়ে যায় সবকিছু। বর্ষা এলেই নীলের প্রভাব খুঁজে পাওয়া যায় ফ্যাশন হাউসগুলোতে। দেশের নামকরা সব ফ্যাশনহাউসগুলো বর্ষা এলেই সব নীল পোশাকের ভাঁজ খুলতে শুরু করে। আর সেই সুবাদে বর্ষাজুড়ে ফ্যাশনে নীলের প্রভাবটা লক্ষণীয়। সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ যুগের বাঙালিরা এখন রং আর ঋতু সচেতন। আর তাই বর্ষার পোশাক মানেই নীল গ্রহণ। মেয়েদের জন্য বর্ষায় বিশাল একফালি নীল আঁচল হয়ে উঠতে পারে ফ্যাশনের সেরা অনুষঙ্গ। সঙ্গে টিপ কিংবা খোঁপায় ফুলেল সাজ মানিয়ে যাবে যেকোনো বর্ষার বিকেলে। শাড়ির বদলে নীল কামিজও মানাবে দারুণ। বর্ষায় সাধারণত সুতির আধিক্যই একটু বেশি থাকে। তবে এসময় সফট সিল্ক, ধুপিয়ান, মসলিন এসব কাপড়ও ব্যবহার করতে পারেন। যে কাপড়ই গায়ে জড়ান না কেন, মনে রাখবেন আমাদের দেশে বর্ষা কিন্তু খুব ঠাণ্ডা পরিবেশ বয়ে আনে না। বরং অনেক সময় আবহাওয়াটা একটু ঘোলাটে গরমের জন্ম দেয়। আর তাই পোশাকে কোনো ভারী কাপড় আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতে পারে। নীল কামিজে একটু স্নিগ্ধ ভাব খুঁজে বের করুন। সঙ্গে গয়নাগাটি খুব ভারী ব্যবহার করবেন না। আর জুতা এমনটা নির্বাচন করুন যেন কর্দমাক্ত পথে মাড়াতে আপনাকে তা বগলদাবা করতে না হয়। তরুণ তুর্কিরা এই বর্ষায় জিন্সের সঙ্গে পরতে পারেন ফতুয়া। আপনার প্রিয় নীল জিন্সটি নিঃসন্দেহে এই বর্ষায় হয়ে উঠবে আপনার প্রিয় পোশাক। বর্ষায় নীল জিন্সের সঙ্গে নীলের কোনো ভিন্ন শেডের ফতুয়া ব্যবহার করুন। সঙ্গে কনভার্স কিংবা যেকোনো ক্যাজুয়াল স্নিকার্স মানিয়ে যাবে দারুণ। ছেলেদের জন্য বর্ষার ফ্যাশনের নীল উঠে আসে শার্ট, পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়ায়। বর্ষায় শার্টে শুধুই নীল রাখতে পারেন। কিংবা কোনো ট্রাইবাল টেক্সচারের নীল শার্ট আপনার স্মার্টনেসের পাশাপাশি আপনার রুচিরও বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। বর্ষায় এমন কিছু ফতুয়া ব্যবহার করুন, যেগুলো ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে আর সেই সঙ্গে নীলের ছোঁয়ায় এনে দেবে প্রশান্তি। শার্ট ফতুয়ার বাইরে ছেলেরা বর্ষায় নীল শেডের টি-শার্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে একটু ভিন্ন লুক আনতে ক্যাজুয়াল স্নিকার্সের সঙ্গে সাদা প্যান্ট আর উপরে কোনো নীল শার্ট কিংবা টি-শার্ট পড়ুন, দেখবেন এই বর্ষায় সবার নজর আটকে যাবে আপনার দিকেই।

শুধুই পোশাক আর ফ্যাশনে নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও বর্ষা আসে যেন নীল বার্তা নিয়ে। প্রিয় মানুষটির কাছে লেখা চিঠিটা যখন সযতনে ঠাঁই নেয় নীল খামে, তেমনি প্রেয়সীর নীল আঁচল কিংবা জানালাজুড়ে নীল পর্দা মনে করিয়ে দেয় বাইরের ভেজা বর্ষার বৃষ্টি কথা। তাই জীবনের প্রতিটি পরত বুঝি ভেসে যায় বর্ষা নীলে। ঘরের কোনায় ছোট্ট কুশন কভার থেকে শুরু করে বিছানা, চাদর, পর্দা এসবেও নীলের ব্যবহার বর্ষাকে আরো বেশি উপভোগ্য করে তুলবে। তাই এমন করে সাজিয়ে তুলুন আপনার অন্দরকে। বর্ষায় ঘরের অন্দর সাজাতে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করুন, যেগুলো আপনার পুরো পরিবেশটাকে অনেক বেশি নীলাভ করে তুলবে। যদি ঘর ছোট হয় তাহলে এক রঙা নীল পর্দা ব্যবহার করুন। আর বড় ঘরের জন্য নীলের যেকোনো ছাপাও মানিয়ে যাবে বেশ। কুশন কভারগুলোয় নীল ভাবনাটা রাখতে চেষ্টা করুন। এমনকি আপনার গাড়িতেও এমন ২-৩টা নীল কুশন থাকলে দারুণ মানাবে। বিছানার চাদরে নীল অথবা নীল-সাদার মিশেল রাখুন। আর খাবার টেবিলে রাখুন নীল রঙা ন্যাপকিন। দেখবেন এই বর্ষায় বৃষ্টি আপনাকে আলিঙ্গন করবে নীল চাদরে জড়িয়ে।

মডেল           রিবা, তিথি, ইন্দ্রানী ও রাব্বী

পোশাক         কে ক্র্যাফট

ছবি                বিশ্বজিত্ সরকার