কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণদের ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪১

>> জান্নাতুল ফেরদৌস, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

 

‘বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধকরণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন। গত ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর তিনদিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।

২২ নভেম্বর দুপুর ২টায় এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. মো. আবু তাহের। সম্মেলনের উপদেষ্টামণ্ডলী হিসেবে ছিলেন স্বপন চন্দ্র মজুমদার, কাজী উমর সিদ্দিকী রানা, মাহবুবুল হক ভূঁঁইয়া, নাসির হোসেন, রোকসানা আক্তার ও সায়েদ ফজলুল মেহেদী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের আদলে গঠিত এ সম্মেলনের নাম দেওয়া হয় কুমিল্লা ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন-২০১৮। বিভিন্ন দেশের ২৫টি  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশসহ মোট সাতটি দেশের প্রায় ৩০০ তরুণের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ সম্মেলন। সম্মেলনে ক্যামেরুন থেকে ৫ জন, নাইজেরিয়া থেকে ৪ জন এবং ভারত, নেপাল, আাাফগানিস্তান, আইভরিকোস্ট প্রতিটি দেশ থেকে ১ জন করে মোট ১৩ জন বিদেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

এই ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে ৭টি কমিটিতে ৭টি বিষয়ের আলোচনা করা হয়। কমিটিগুলো হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জাতিসংঘ মহিলা পরিষদ (ইউএনউইমেন), জাতিসংঘ সামাজিক-অর্থনৈতিক ও মানবাধিকার পরিষদ (সকহাম), জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি), জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক পরিষদ ( ইউএনএইচসিআর), ইন্টারন্যাশনাল প্রেস।

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিগুলো তাদের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষে দাবি তুলে ধরেন জাতিসংঘের কাছে। মূল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতোই প্ল্যানারি সেশন, কমিটি সেশনের আলোচনার মাধ্যমে পাস করিয়ে আনা হয় পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এজেন্ডা, যা তুলে ধরা হয় জাতিসংঘের সামনে। সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরাসহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতীকী সংবাদদাতারা প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্ন রাখেন বৈশ্বিক বিভিন্ন সমস্যায় তাদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত। প্রতিনিধিরাও বৈশ্বিক শান্তি আনয়নে নিজ নিজ দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

তিন দিন ধরে কূটনৈতিক তর্কবিতর্কে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আপ্রাণ প্রচেষ্টা। দুই পার্শ্ববর্তী দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক মারপ্যাঁচ, বিশ্বের সমতা ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক। আলোচনার টেবিলে কূটনৈতিক যুক্তিতর্কে প্রতিনিধিরা কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। অধিবেশন শেষে তারাই আবার মত দিল নতুন পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পক্ষে। গত ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) লালমাই অডিটোরিয়ামে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনদিনব্যাপী সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের মধ্য থেকে বিজয়ীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। সাতটি কমিটির মোট ২৭ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ড. মুহ. আমিনুল ইসলাম আকন্দ। ড. মুহ. আমিনুল ইসলাম আকন্দ তার বক্তব্যে বলেন, ‘জাতিসংঘ-অধিবেশনে কমিটিগুলো যদি একটি একক সিদ্ধান্তে আসতে পারে, তাহলে চূড়ান্তভাবে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।’ আয়োজক সংস্থার সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই আয়োজনটি ভবিষ্যতের জন্য খুবই ফলপ্রসূ হবে।’ সম্মেলনের শেষ দিনে পুরস্কারবিতরণী শেষে অনুষ্ঠিত হয় ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ নামে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অতীতে যাই হোক না কেন, স্বার্থের লড়াইয়ে কোনো রাষ্ট্রই যেন মনুষ্যত্ব বিসর্জন না দেয় এ বার্তাই দিয়ে গেল কুমিল্লা ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন। সহযোগিতা ও সমঝোতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও সমতাভিত্তিক উন্নত বিশ্বের আহ্বানই ধ্বনিত হয়েছে সম্মেলনজুড়ে।