চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ: জেঁকে বসেছে শীত

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৫:৪৫

চলতি সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল নয়টার দিকে জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ।

অগ্রহায়ণের শেষে শীত জেঁকে বসেছে চুয়াডাঙ্গায়। তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করেছে। উত্তুরে হিমেল হাওয়া বাড়িয়ে দিচ্ছে শীতের মাত্রা। সন্ধ্যা নেমে আসার পর পরই জেলার আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে। সকালে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত কুয়াশার আধিক্য থাকছে প্রকৃতিতে। সড়কে হেডলাইট জ্বেলে যান চলাচল করছে।

চুয়াডাঙ্গায় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে এই জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার সকাল নয়টার দিকে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তখন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের রোববার সকাল নয়টার দিকে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ।’

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জামিনুর রহমান বলেন, ‘বুধবার সকাল নয়টার দিকে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি এদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ।’

চলতি সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েসে আবহাওয়া অফিস। ছবি: ইত্তেফাক

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে এই জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে দুর্ভোগ বেড়ে গেছে মানুষের। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন।’

হাজরাহাটি গ্রামের দিনমজুর কালাম বলেন, ‘সকালে কাজে বের হতে পারিনি। রোদ পোহাচ্ছি।’

জাঁকিয়ে শীত পড়ার বিষয়ে কুলচারার নাপিত মোবারক আলী বলেন, ‘শীতে সকালে সাইকেল চালিয়ে যেতে বেশ কষ্ট হয়। তবুও পেটের দায়ে বের হতে হয়।’

সরোজগঞ্জের সাদেক আলী বলেন, ‘সকাল ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি। পুরনো ভাঙারি জিনিস কিনবো। কিন্তু শীতে সকাল সকাল গ্রাম ঘুরতে কষ্ট হচ্ছে।’

গ্রামে গ্রামে সাইকেল চালিয়ে ঝুরি ভাজা বিক্রি করেন গোপীনাথপুরের আক্কাচ আলী। শীতে অবর্ণনীয় কষ্টের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই শীতে সকালে বের হওয়াই কষ্ট।’

ইটভাটার শ্রমিক কোষাঘাটার সিদ্দিক আলী বলেন, ‘ভোরে কাজে আসতে হয়। কাদামাটির কাজ করতে হয়। শীতে হাত-পা টালিয়ে (ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া) যায়।’

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক দিন ধরেই জেলায় কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। দিনের তাপমাত্রাও কমেছে। বিকেল গড়ালেই হিমেল হাওয়ায় শীতের পরশ অনুভূত হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে শীতের প্রকোপ। সকালে দেখা যায় প্রকৃতি কুয়াশার চাদরে জড়িয়েছে। সে কুয়াশায় ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। শীত ঘিরে বেড়েছে শীতের পোশাকের চাহিদা।

পসার বেড়েছে গরম পোশাকের
শীত আসায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরসহ উপজেলার ফুটপাতগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে শীতের নতুন-পুরনো কাপড়ের দোকান। সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, ট্রাউজার, টুপিসহ বিভিন্ন রকমের শীতের কাপড় ওঠে এসব দোকানে।

শীতে বাড়ছে রোগব্যধি
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। চিকিৎসকরা শীতে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। শীতের প্রকোপে হাসপাতালে ক্রমাগত বাড়ছে রোগীর চাপ। বিশেষ করে প্রবীণ ও শিশুদের নিউমোনিয়া-ডায়রিয়ায় আক্রান্তের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘প্রায় শ’ খানেক শিশু ঠাণ্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১৫০-২০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘সদর হাসপাতালে বর্তমানে গত এক সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার ১০০ রোগী ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।’

বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে প্রায় ১০৮ রোগী ভর্তি আছে। এখন আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে আমরা জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত শিশু রোগী বেশি পাচ্ছি। আমাদের বর্তমানে দুজন শিশু বিশেষজ্ঞ আছে। শিশু ওয়ার্ডে তারা সকাল ও রাতে নিয়মিত পরিদর্শন করছেন এবং প্রয়োজনমাফিক পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ ও রোগীদের ঠিকমতো দেখভাল করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১ মাস থেকে শুরু করে ৫ বছর বয়সের শিশুদেরকে হাসপাতালে বেশি দেখা যাচ্ছে। আমাদের পরামর্শ হলো আপনারা আপনাদের শিশুদেরকে এই আবহাওয়া পরিবর্তনে খুবই সতর্কতার সঙ্গে রাখবেন।’

ইত্তেফাক/এইচএ