অভিবাসন নীতি

বিরোধীদের সম্মিলিত বাধার মুখেও অবিচল ম্যাক্রঁ

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৪৫

বিরোধী পক্ষের সম্মিলিত বাধার মুখেও অভিবাসন আইনের প্রশ্নে নতি স্বীকার করতে প্রস্তুত নন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাত্রঁদ্ধ। আপস সম্ভব না হলে তার হাতে বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের উপায়ও রয়েছে। ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

শরণার্থী ও অভিবাসনের প্রশ্নে ইউরোপের রাজনীতি বর্তমানে উত্তাল। বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ রাজনীতিতে চরম বিভাজন সৃষ্টি করছে। অনেক তর্কবিতর্কের পর ব্রিটেনের সংসদ সবে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর সরকারি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে গিয়ে সরকারবিরোধী পক্ষের সম্মিলিত বাধার মুথে পড়েছে। সংসদে এমন ধাক্কার ফলে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ফ্রান্সের সংসদের নিম্ন কক্ষে সরকারের আনা ইমিগ্রেশন বিল অভূতপূর্ব বাধার মুখে পড়ে। বাম থেকে দক্ষিণপন্থি সব বিরোধী দল নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সরকারি প্রস্তাব পেশ করা এবং সে বিষয়ে তর্কবিতর্কের আগেই তারা এক প্রস্তাব পাশ করে ম্যাক্রঁর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকার পক্ষ নিজস্ব শক্তিতে কোনো আইন অনুমোদন করাতে পারছে না।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) মাক্রোঁ প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্ন ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বিরোধী পক্ষের কড়া বার্তা সত্ত্বেও তিনি নতি স্বীকার করতে প্রস্তুত নন। আইনের খসড়াটিকে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনে কিছু রদবদল করে আবার সংসদে পেশ করতে চান তিনি।

দেশের কাজে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ তুলে মাত্রেঁদ্ধা বিরোধীদের সমালোচনা করেন। সমাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ত করা ও অভিবাসন সংক্রান্ত আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। প্রধানমন্ত্রী বর্নও সংসদে বিরোধীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সমালোচনা করেন। বিশেষ করে চরম দক্ষিণপন্থিরা যেভাবে বামপন্থি জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, তা ফরাসি জনগণের জন্য কল্যাণকর নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফ্রান্সে জনসংখ্যার মধ্যে অভিবাসীদের অনুপাত প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশের মতো।

ইত্তেফাক/এমটি