রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পাবনায় কমছে পেঁয়াজের দাম

মুড়িকাটা পেঁয়াজের মণ ৩২০০ টাকা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৩৩

হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির পর এখন পাবনার পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫৫-৬২ টাকা। মূলত দেশীয় (মুড়িকাটা) নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। এছাড়া অস্বাভাবিক দাম হঠাৎ বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজের বাজার থেকে ক্রেতারা একরকম মুখ ফিরিয়ে নেন। পেঁয়াজ বিক্রি কমে যাওয়ার কারণেও ব্যবসায়ীরাও দাম কমাতে বাধ্য হন।

জানা যায়, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর গেল শুক্রবার রাত থেকেই বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। শুক্রবার সারা দিন পাবনার পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ১০০-১১০ টাকা, সেখানে পরের দিন শনিবার হয়ে যায় ১৯০-২০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে শুক্রবার প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা, সেখানে শনিবার হয় ২৩০-২৪০ টাকা। এরপর একেক উপজেলার বাজারে বিক্রেতারা পেঁয়াজের একেক রকম দামে বিক্রি করতে থাকেন। এখন উঠতে শুরু করেছে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ। পাঁচ দিন পর পাবনায় অস্থির পেঁয়াজের বাজারের ঝাঁজ তাই কিছুটা কমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ভালোভাবে বাজারে আসলে দাম আরো কমে যাবে।

সদর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের পেঁয়াজচাষি কুতুব আলী বলেন, দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। বৃহস্পতিবার বাজারে পেঁয়াজ এনেছিলাম। এদিন সবচেয়ে ভালো দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে। আর মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা মণে বিক্রি করেছি। সুজানগরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, নতুন পেঁয়াজ ৩ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা আর পুরাতন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। এখন প্রতিদিনই পেঁয়াজ আসছে। দুই-এক দিনের মধ্যে আরো দাম কমে যাবে।

এদিকে, দেশি নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বর্তমানে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০০ টাকা ও দেশি পুরাতন পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাঁথিয়ার চিনাখড়া বাজারে আসা ঢাকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলেন, শনিবার দেশি ভালো মানের পুরান পেঁয়াজ কিনেছিলেন ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা মণ দরে। আর মঙ্গলবার পুরান পেঁয়াজ কিনছেন সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায়। আর নতুন ভালো মানের পেঁয়াজ কিনেছেন ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে। তারা বললেন, পেঁয়াজের দর পতনে তাদের এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, এ বছর পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৮ টন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা হয়েছে ৫ হাজার ৬৯৬ টন। আশা করছি, উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, এখনো কৃষকের ঘরে পুরাতন দেশি পেঁয়াজ মজুত আছে ৭০০ টনের মতো।

ইত্তেফাক/এসটিএম