ময়লা ও দুগর্ন্ধযুক্ত পানির কারণে রাজধানীর বহু মানুষ খাবার পানির ক্ষেত্রে নির্ভর করত ওয়াসার এটিএম বুথের পানিতে। সেই পানির দাম দ্বিগুণ হওয়ায় কমেছে পানি বিক্রি। যেখানে আগে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও পানি কিনে খেতেন, তারা এখন পানি ফুটিয়ে খাচ্ছেন। গ্রাহকরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী, সেখানে পানির দাম শতভাগ বৃদ্ধি অযৌক্তিক। একদিকে ঢাকা ওয়াসা নগরবাসীকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, অন্যদিকে খাবার পানির দাম বাড়াচ্ছে, যা জনগণের খরচের ওপর বাড়তি চাপ দিচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার এটিএম বুথের পানি আগে প্রতি লিটার পানি গ্রাহকেরা ৪০ পয়সা দিয়ে কিনতেন। সেটি এখন প্রতি লিটার কিনতে হচ্ছে ৮০ পয়সা করে।
রাজধানীর দিলু রোড এলাকায় সজীব হোসেন পরিবারের পানির চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ২০ লিটার পানির দরকার হতো। তিনি বুথ থেকে প্রতি লিটার ৪০ পয়সা দরে ২০ লিটার পানি কিনতেন। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকে হঠাৎ করে পানির দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় বুথ থেকে পানি কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। এর পরিবর্তে তার পরিবার এখন তাদের বাড়িতে গ্যাসের চুলায় পানি ফুটিয়ে খান। তিনি বলেন, পানির দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, তাই আমি এখন এটি বিশুদ্ধ করার জন্য পানি ফুটিয়ে নিই।
দিলু রোডের ওয়াটার বুথের অপারেটর ফাহাদ বলেন, ‘পানির দাম বাড়ার আগে এই বুথ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ হাজার লিটার পানি বিক্রি হতো, যা এখন ৭ হাজার লিটারে নেমে এসেছে। এখানে প্রায় ১৪ হাজর ৫০০ নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছে। হঠাৎ করে পানির দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় এই প্রভাব পড়েছে।
ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ঢাকা ওয়াসা) যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক কোম্পানি ড্রিংওয়েলের সঙ্গে যৌথভাবে রাজধানীবাসীকে ওয়াটার এটিএম বুথের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে আসছে। ২০১৭ সালে প্রথম চালু হওয়ার পর থেকে এই বুথগুলিতে গ্রাহকের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১ আগস্টে পানির দাম প্রতি লিটার ৪০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি করার পর থেকে, পানি বিক্রি প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে।
ড্রিংওয়েলের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা ওয়াসার সহায়তায় তারা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৩৩০টি স্থানে ওয়াটার এটিএম বুথ স্থাপন করেছে। এখন এই বুথগুলির মধ্যে প্রায় ৯০টি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
এর মধ্যে মিরপুর, আগারগাঁও, শ্যাওড়াপাড়া, বাসাবো, ফকিরাপুল, আজিমপুর, মোহাম্মদপুর, কমলাপুর, গাবতলী, উত্তরা, দয়াগঞ্জ, বাড্ডা, ভাটারা, বসুন্ধরা, মহাখালী, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৪২টি বুথ চালু রয়েছে। ঢাকায় এর নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখের বেশি। পানির দাম বৃদ্ধির আগে দৈনিক পানি ক্রয় ছিল ১৪.৫ লাখ লিটার কিন্তু এখন পানি কেনা প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে দৈনিক গড় পানি ক্রয় প্রায় ১২ লাখ লিটার।
ওয়াটার এটিএম বুথ প্রকল্পের পরিচালক এবং ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী রামেশ্বর দাস বলেন, পানির দাম বাড়ানোর আগে আমাদের খরচের জন্য প্রতি লিটার পানিতে প্রায় ৩০ পয়সা ভর্তুকি দিতে হতো। মূল্য বৃদ্ধির পর ওয়াটার বুথে ঢাকা ওয়াসার ব্যয় ও আয়ের ভারসাম্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে পানির স্বল্পমূল্যের কারণে অনেকেই তা পান করা ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করতেন। তাই ওয়াসার ভর্তুকি কমাতে ও পানির অপচয় রোধে বিভিন্ন পণ্যের দাম বিবেচনায় নিয়ে পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।
