উত্তর কোরিয়ার স্মার্টফোনে চলবে শুধু সরকারি অ্যাপ

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৪

মাহবুব শরীফ

 

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ায় নতুন স্মার্টফোন উন্মোচন করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ওই স্মার্টফোনে চলবে শুধু সরকার অনুমোদিত অ্যাপস। এছাড়া রয়েছে আরো নজরদারির কৌশল। উত্তর কোরিয়া ব্যতীত  বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সঙ্গেও যুক্ত হওয়া যাবে না ওই ডিভাইসটি দিয়ে।

এটি তাদের নতুন  কোনো আত্মনির্ভশীলতার উদাহরণ নয়। তারা আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আত্মনির্ভরশীলতার কথা বলে আসছে। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো—ওই স্মার্টফোনটি বানানো হবে চীনে।  এটির নাম নির্ধারণ করা হয়েছে পিয়ংইয়াং ২৪২৫। অক্টোকোর প্রসেসর সমৃদ্ধ স্মার্টফোনটিতে থাকবে ফেস শনাক্তকারী ফিচার ও ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি।

ডেইলি মিররের স্মার্টফোনটি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ওই স্মার্টফোনটিতে থাকবে না বিদেশি  কোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার মতো পদ্ধতি। শুধু তাই নয়, স্মার্টফোনটির সঙ্গে আসা বিভিন্ন ছবি ও রিংটোনেরও পরিবর্তন করতে পারবে না ব্যবহারকারীরা। মিররে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ওই ডিভাইসটি দিয়ে শুধুমাত্র উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব ওয়াই-ফাই ‘মিরাই’ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে ব্যবহারকারীরা। এতে সরকারি বিভিন্ন প্রচারণা দেখা যাবে ডিভাইসটির মাধ্যমে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন সফটওয়্যার ইনস্টল করার আগে ওই স্মার্টফোনটি চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল। উত্তর কোরিয়া হয়তো এমন চুক্তিতেই পণ্য উত্পাদনের অর্ডার দিয়েছে যে তারা নিজস্ব সফটওয়্যার ইনস্টল করবে। তারা আরো মনে করে, আগের সফটওয়্যার পরিবর্তনের ফলে হার্ডওয়্যারের ধরনের ওপর নির্ভর করে কিছু ফিচার বাতিল হয়ে যেতে পারে। উত্তর কোরিয়া ডিভাইসটি আমদানির পর এর যাবতীয় সফটওয়্যার পরিবর্তন করেছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তর কোরিয়ার ওই স্মার্টফোনটির কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও স্মার্টফোনে কোনো ধরনের অ্যাপ ইনস্টল করা যাবে  সে সম্পর্কেও বিস্তর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গিয়েছে চীনা এবং ইংরেজি শেখার অ্যাপ এতে ইনস্টল করা যাবে, পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত জ্ঞানকোষ এবং আবহাওয়া অ্যাপ ইনস্টল করা যাবে।

ইন্টারনেট দুর্লভ হওয়ার কারণে উত্তর কোরিয়ানরা আগে নিজে থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারতেন না। এ কাজের জন্য তাদেরকে টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিতে হতো। পিয়ংইয়ং ২৪২৫-এর ক্ষেত্রে এটি পরিবর্তিত হবে কি না তা এখনো কোনা ধারণা পাওয়া যায়নি।

এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তর কোরিয়ান স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। ওই স্মার্টফোনগুলো গেইম খেলা, বই পড়া, গান শোনা, রান্না শেখা এবং কৃষি উত্পাদন বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।

 ডেইলি মিরর