স্বাদে, গন্ধে ও পুষ্টিতে আম অতুলনীয়। আমকে আমাদের দেশে ‘ফলের রাজা’ বলা হয়। পাকা আম যেমন সুস্বাদু, তেমনি কাঁচা আমও অত্যন্ত মুখরোচক। কাঁচা অবস্থায় রং সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ রং হয়ে থাকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেশি পরিমাণে আম চাষ হয়। পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। যেমন ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসা, বোম্বাই, অরুণা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্ণরেখা, মিশ্রিভোগ, লক্ষণভোগ, নীলাম্বরী, কালীভোগ, কাঁচামিঠা, বারোমাসি, কেন্ট, হাড়িভাঙ্গা, কলাবতী ইত্যাদি।
ভারতীয় উপমহাদেশে কয়েক হাজার বছর ধরেই আমের চাষাবাদ চলছে। পূর্ব এশিয়াতে আমের প্রচলন হয় খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ-পঞ্চম শতাব্দী থেকে এবং চাষাবাদ শুরু হয় খ্রিস্টাব্দ দশম শতাব্দীর দিকে। ভারতীয় উপমহাদেশ এবং পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশের পর ব্রাজিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা মেক্সিকোতে আরো অনেক পরে আমের প্রচলন ও উত্পাদন শুরু হয়। মরোক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৪ শতকে আমের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব উষ্ণপ্রধান অঞ্চলে আমের চাষ হয়। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক আম উত্পাদন হয় শুধু ভারতেই। এরপর অন্য যেসব দেশ আম উত্পাদন করে তার মধ্যে আছে চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর-দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা।
আমে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, খনিজ পদার্থ ও ক্যালোরি রয়েছে। পাকা আমের মতো ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ফল আর নেই। দৃষ্টিশক্তি ভালো ও ত্বক মসৃণ রাখতে ভিটামিন ‘এ’ অধিক প্রয়োজনীয়। আম সুষম খাদ্যের অনেকাংশ পূরণ করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। সুস্থতা এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য আমাদের বেশি করে ফল খাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে আম খাওয়া যেতে পারে।
আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায় পাকা ফল ল্যাকজেটিভ, রোচক ও টনিকরূপে ব্যবহূত হয়। কচি পাতার রস দাঁতের ব্যথা উপশম করে। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা, পুরনো আমাশয় এবং প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা নিরাময় করে। জ্বর, বুকের ব্যথা এবং বহুমূত্র রোগের জন্য আমের পাতার চূর্ণ ব্যবহার করা হয়। ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি আম থেকে চাটনি, আচার, আমসত্ত্ব, মোরব্বা, জ্যাম, জেলি ও জুস তৈরি হয়। পাকা ও কাঁচা উভয় আমকেই প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ করা যায়। আম কেটে শুকিয়ে আমচুর তৈরি করলে তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশি পুষ্টিকর। রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে পাকা বা কাঁচা আম একটি মহৌষধ।
