বিক্ষোভে ফের উত্তাল হংকং

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৭

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে হংকং। চীনের কাছে হংকংয়ের হস্তান্তর বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল সকাল থেকেই বিভিন্ন সড়কে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ। একপর্যায়ে তারা সরকারি দফতরে হামলা ও আইন পরিষদ ভবনে ধাতব বস্তু দিয়ে গ্লাস ও দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়েছে। এতে আন্দোলনকারীরা কিছুক্ষণ শান্ত থাকলেও পরে আবার তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

আধা-স্বায়ত্তশাসিত এ নগরীতে গত তিন সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এসব বিক্ষোভ থেকে হংকংকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার সুযোগ দেবে এমন আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এদিন বিক্ষোভকারীদের ছোট একটি দল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখল করে রাখে। এতে করে আশপাশে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা যখন নগরীর অ্যাডমিরাল্টি ও ওয়ানচাই এলাকার রাস্তা দখল করে থাকে তখন তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, হস্তান্তর বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের কিছু সময় আগে পুলিশ রাস্তা অবরোধ করে থাকা বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে করে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। হংকংয়ের বেইজিংপন্থি নেতাদের সহযোগিতায় এখানকার স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির ওপর চীনের নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানাতেই এসব বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ১৫০ বছর ব্রিটিশ শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই অঞ্চলটি চীনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আর এই দিনটিকে কেন্দ্র করেই গতকাল গণতন্ত্রকামী হাজারো মানুষ রাজপথে নেমে আসে। তাদের অভিযোগ, চীন তাদের স্বাধীনতার ওপর বিভিন্ন অজুহাতে হস্তক্ষেপ করছে। হংকং প্রশাসন তাদের জনগণের স্বার্থ রক্ষা না করে চীনা স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

এর আগে চীন ও তাইওয়ানে অপরাধী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে হংকংজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ চীনের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে। তাদের বক্তব্য, এ বিলের কারণে হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপ আরো বেড়ে যাবে। মূলত হংকংকে চীনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও একটি বিশেষ বন্দোবস্তের আওতায় নগরীটি এখনো পৃথকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত।