জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিএনপি ও জাতীয় পার্টি আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতিসহ সাংবিধানিক ও সম্মানের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্বাধীনতা বিরোধীদের বসিয়েছিল।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে মাদারীপুরের শিবচরে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে চিফ হুইপ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ পদে তারা স্বাধীনতা বিরোধীদের বসিয়েছে। সংসদ একটি পবিত্র জায়গা। সেখানের সম্মানীয় একটি পদ স্পিকার। সেখানেও তারা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে বসিয়েছে। শুধু স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিই নয় যারা সরাসরি বিরোধীতা করেছিল তাদেরকেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল। এরপর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী যারা তাদের শুধু বিদেশি রাষ্ট্রদূত করেই নয় ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তাদের বিরোধী দলের নেতাও কিন্তু খালেদা জিয়া সরকার বানিয়েছিল।
বক্তব্যকালে চিফ হুইপ আরও বলেন, যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে তারাই কিন্তু বেশি লাভবান হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল তাকেও নাগরিকত্ব দিয়ে এই জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। যাদের জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু বিচারের ব্যবস্থা করেছিল সেই বিচার ব্যবস্থাও কিন্তু তারাই (বিএনপি) বন্ধ করে দিয়েছিল। সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আমরা দেখলাম জামায়াতের সাথে বিএনপি ঐক্য করেছে। শুধু ক্ষমতার ঐক্যই নয় তাদের আদর্শের ঐক্য করে আমরা দেখেছি তারা কি না করেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধময় পবিত্র এই মাদারীপুরের মাটিতেও আমরা দেখেছি তারা মুজাহিদকে দায়ীত্ব দিয়েছে। যেই এলাকা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি সেই এলাকা কিভাবে নষ্ট করা যায়, ধ্বংস করা যায় তার জন্য মুজাহিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মানুষের খাদ্য যোগান দেয় আমাদের কৃষি ব্যবস্থা। সেই কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য নিজামিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের।
এসব কর্মসূচিতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান আ. লতিফ মোল্লা, পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাজাহান মোল্লা, সাধারন সম্পাদক ডা. মো. সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
