ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে নামে মাত্র দায়সারাভাবে বিজয় দিবস উদযাপনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কলেজ প্রশাসন তা দায়সারাভাবে উদযাপিত করেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বেশির ভাগ আসন খালি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিত নেই বললেই চলে। হাতেগোনা সামান্য গুটিকয়েক জন শিক্ষার্থী নিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়েছে। ৫০টির আসন রাখা হয়ে ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য। যার পুরোটাই দেখা গেছে ফাঁকা পরে আছে।
অনুষ্ঠানে ছিল না কোনো বিজয় র্যালি, চিত্রআঙ্কন, খেলাধুলা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অফিশিয়াল কোনো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অনুষ্ঠানের কথা তাদের জানানো হয়নি। কলেজ ওয়েবসাইটে সার্চ করে দেখা যায় ১২ ডিসেম্বরে শীতকালীন ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে নামে মাত্র উদযাপনের বিষয় জানানো হয়। যার কারণে পরবর্তীতে আর কোনো বিজ্ঞপ্তি না পাওয়ায় শিক্ষার্থী এই উদযাপনের বিষয়ে কিছুই জানতো না। কলেজ প্রশাসনের এমন অবহেলার শিক্ষার্থীরা খুবই উদ্বিগ্ন। তাদের অভিযোগ প্রতিটা জাতীয় অনুষ্ঠানেই এমনটি করা হয়ে থাকে। কলেজ প্রাঙ্গনের সামনে কোনো মতে মঞ্চে একটু সামিয়ানা টানিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গায় কোনো সামিয়ানা টাঙানো হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা খোলা আকাশের নিচে বসে এই উদযাপন দেখেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, সাত কলেজের অন্য সব ক্যাম্পাসে অডিটোরিয়াম রুমে বিজয় দিবসসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলেও আমাদের হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। যা খুবই দুঃখের বিষয়। কলেজ প্রশাসনের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া কঠিন। প্রতি বছরই কলেজ কতৃপক্ষ জাতীয় অনুষ্ঠানে এমনটা করে থাকে। এই তো গেল ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস। যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কলেজ কতৃপক্ষ নিজেদের মতো করে অফিসচিয়ার্স কাউন্সিলে বসে একটা আলোচনা সভা করে যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেউ যেতে পারেনি। এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাউকে জানানো হয়নি। বুদ্ধিজীবী দিবসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যেখানে আলোচনা সভা করার কথা। শিক্ষার্থীদের মাঝে বুদ্ধিজীবী দিবস সম্পর্কে জানানোর কথা। তার কোনোটাই করেনি কলেজ প্রশাসন। যা বলা চলে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবহেলা পাত্র হিসেবে গণ্য করছে। তাদের এই গাফিলতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জাতীয় দিবস সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে পারছে না।
এ দিকে সাংবাদিকদের উপস্থিত দেখে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মোহসীন কবির আলোচনা সভার বক্তৃতা শেষে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যান। অন্যদিকে উপাধ্যক্ষ দায়সারা বক্তব্য দিয়ে বেরিয়ে যান।
