সেরাটাই দিতে চান আজ মাশরাফিরা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২১:১৭

স্পোর্টস রিপোর্টার, বার্মিংহাম (ইংল্যান্ড) থেকে

কেউ বলছে বাংলাদেশের জন্য বাঁচামরার লড়াই। আবার কারো কাছে, এটি মধুর প্রতিশোধের ম্যাচ। যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না বিশ্বকাপে আজ টানটান উত্তেজনায় ভরা এক ক্রিকেট যুদ্ধ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব। দুই প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারতের এই ম্যাচটি হবে ইংল্যান্ডের এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।

ঠিক দুই বছর আগে ২০১৭ সালের জুনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুই প্রতিবেশীর সাক্ষাত্ হয়েছিল। ওই ম্যাচে ভারত জিতেছিল ৯ উইকেটে। তামিমের ৭০ ও মুশফিকের ৬১ রানে ভর করে ২৬৪ রানের পুঁজি নিয়েও বাংলাদেশ জিততে পারেনি। দুই বছর পর আজ সেই এজবাস্টনেই ফের দেখা হচ্ছে দুই প্রতিবেশীর। এবার লড়াই বিশ্বকাপের।

এই ম্যাচের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে সেমিফাইনালে ওঠা। আজ ভারতকে হারাতে না পারলে পাকিস্তানের সাথে পরের ম্যাচের কোনো গুরুত্ব থাকবে না। অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য এখনো সেমিফাইনালে ওঠার আশা ছাড়েননি। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এখনো আশার কথা হচ্ছে যে বাংলাদেশ এখনও রেসে রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সাথে জিততে পারলে হয়তো এখন আরো নির্ভার থাকতে পারতাম। কাজটা এখন কঠিন হলেও ভারতের সাথে আমরা সেরা খেলাটাই খেলতে চাই।’

ওডিআই র্যাংকিংয়ে ভারত বিশ্বের এক নম্বর দল। বাংলাদেশ আছে সাত নম্বরে। ওডিআইতে দুই দেশের মুখোমুখি হিসাবটা অস্বস্তিকর বাংলাদেশের জন্য। এ পর্যন্ত ৩৫ লড়াইয়ে ভারত জিতেছে ২৯ বার। বাংলাদেশ পাঁচবার। একটি ম্যাচে কোনো ফলাফল হয়নি। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয়টা ছিল ২০১৫ সালের জুনে। তিন ম্যাচের হোম সিরিজে প্রথম দুটিতে টাইগাররা জিতেছিল যথাক্রমে ৭৯ রান ও ৬ উইকেটে। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ভারত জিতেছিল ৭৭ রানে। ২-১ ম্যাচে ওই সিরিজে জেতার পর আর জয়ের দেখা মেলেনি। ২০১৮ এশিয়া কাপ ও একই বছর নিদাহাস ট্রফিতেও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। বিশ্বকাপে ভারত ও বাংলাদেশের দেখা হয়েছে দুইবার। ২০০৭ এ বাংলাদেশ জিতেছিল ৫ উইকেটে। ২০১৫ তে মেলবোর্নের আলোচিত ম্যাচে ভারত জিতেছিল ১০৯ রানে।

এজবাস্টনের উইকেটের যা ধরন তাতে টস একট বড় ফ্যাক্টর হতে পারে আজকের ম্যাচে। কার্টনি ওয়ালশ গত রবিবার টিম হোটেলের সামনে বলছিলেন, ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে এজবাস্টনের উইকেট একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। এই উইকেটে নতুন উইকেটে বল টার্ন করবে। যদি সেটাই হয় তাহলে উইকেট পাওয়ার আশায় স্পিনারদের দিয়েই বোলিং আক্রমণ শুরু করবে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি যদি দেখা যায় উইকেটে সুইং আছে কিংবা মুভমেন্ট আছে তাহলে সিমারদেরও ব্যবহার করা হবে। তাই উইকেটের আচরণের ওপর নির্ভর করবে আমাদের আক্রমণের ধরনটা কী হবে।

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ভারতের দুই পেসার মোহাম্মদ সামী ও বুমরা। সামী মাত্র তিন ম্যাচ খেলে ১৩ উইকেট নিয়েছেন। নতুন উইকেটে এরা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। মিডিয়াম পেসার ভুবনেশ্বর কুমার ও পেসার হার্দিক পান্ডিয়া এবং স্পিনার কুলদীপ যাদবও প্রয়োজনের সময় ব্রেক এনে দিতে পারেন। বোলিংয়ের পাশাপাশি ভারতের ব্যাটসম্যানরাও দারুণ ফর্মে আছেন এবারের বিশ্বকাপে। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি প্রতিপক্ষের বোলারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে পারেন।

এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এতদূর আসার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ব্যাটসম্যানদের। ব্যাটিংয়ের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছেন সাকিব। দুই সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে ৪৭৬ রান পাওয়া সাকিব এখনও পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।