শান্তিপূর্ণ দেশে অশান্তির প্রতিচ্ছায়া

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৬

মু. সাইফুল ইসলাম সুমন

আইইপির শান্তিসূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। আমরাও প্রতিনিয়ত শুনি যে, বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উলটোটাই। শান্তিপূর্ণ দেশে অশান্তির প্রতিচ্ছায়া বয়ে চলছেই। আজকাল পথে-প্রান্তরে শোনা যায় কান্নার প্রতিধ্বনি। আরো দেখা যায়, মমতাময়ী বাবা-মায়ের অশ্রুসিক্ত মুখমণ্ডল; ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনের আহাজারি। শান্তিপূর্ণ দেশ অশান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত হওয়ার কারণ হলো স্বার্থপরতা। এই স্বার্থপরতাই হলো অপরাধের মূল হাতিয়ার। স্বার্থপর মানুষ জঘন্যতম কাজ করতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করে না। তারই পরিপ্রেক্ষিতে একশ্রেণির মানুষ সমাজ নয় শুধু দেশে নানা রকম জঘন্যতম কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। তারা হিংস্র জানোয়ারে পরিণত হচ্ছে। তারা পশুর ন্যায় মানুষের উপর অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুনসহ নানা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে মানুষ নিরাপদ হীনতায় ভুগছে। আজ শিশু তার মায়ের কোলে নিরাপদ নয়, স্বামী তার স্ত্রীর কাছে নিরাপদ নয়, স্ত্রী তার স্বামীর কাছে নিরাপদ নয়, বাবা-মা তার সন্তানের কাছে নিরাপদ নয়, পাড়া-মহল্লা, স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া মেয়েরা একশ্রেণির ছেলেদের কাছে নিরাপদ নয়, তারা প্রতিনিয়ত হচ্ছে ইভটিজিংয়ের শিকার। এই তো সেইদিনের কথা যেদিন নেশাগ্রস্ত মেয়ে (ঐশি) তার বাবাকে হত্যা করল, মা তার সন্তানকে ডাস্টবিনে ফেলে দিল, স্ত্রী তার স্বামীকে রেখে পরকীয়া নামক বেড়াজালে থেকে সন্তানদের রেখে পালিয়ে গেল, সন্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও বাবা-মাকে থাকতে হয় বৃদ্ধাশ্রমে, তুরিন আফরোজের মতো এই রকম সহস্র লোকের দ্বারা পিতামাতাকে ছাড়তে হয় নিজগৃহ, থাকতে হয় পথেঘাটে ও ফুটপাতে, স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে স্বামীকে হতে হয় খুন। তনু ও নুসরাতের মতো হাজারো মেয়েরা এক শ্রেণির স্বার্থবাদী প্রশাসনের লোকের সহযোগিতায় হতে হয় ধর্ষণ বা ধর্ষিতা, হাজারো মায়ের প্রিয় সন্তানদের যেতে হয় জেলে। সর্বোপরি  বলা যায়, পথে-প্রান্তরে অনিরাপদ পশুর ন্যায় জনজীবন। মানবতা, নেই কোনো ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা। এই মানবতা থেকে বেরিয়ে আসতে সমাজ ব্যবস্থায় কঠোরতা এবং আইন প্রণয়ন নয় আইন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমেই সুন্দর, সুশৃঙ্খল,  শান্তিপূর্ণ ও উন্নত দেশ উপহার দিতে পারে এ জাতি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, বিএসএস (অনার্স) এমএসএস (অর্থনীতি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়