ক্রিকেটের উন্নয়নে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৬

বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতি অব্যাহত রাখার জন্য স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে—

ক) স্কুল, কলেজ ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের আয়োজন নিয়মিত বাধ্যতামূলক এবং তা বিসিবি-র তত্ত্বাবধানে নিশ্চিত করতে হবে।

খ) প্রতিটি উপজেলা ও জেলাতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে স্থানীয় ক্রীড়া পরিষদের সহায়তায় সাবেক কৃতী ক্রিকেট খেলেয়াড়দের সমন্বয়ে ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট উপ-কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

গ) ভারত কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে সাবেক গুগলি কিংবা দুসরি বোলারকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে হবে। তাঁর কাজ হবে মাঠ পর্যায়ে স্পিনার হান্ট করে তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা। স্পিনারদের  সঠিক স্পটের সঙ্গে কিভাবে বল টার্ন বা বাঁক নেওয়াতে হয় তাও শেখাতে হবে। ঠিক একইভাবে অস্ট্র্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা সাউথ আফ্রিকা থেকে বোলিং কোচ নিয়োগ দিয়ে পেসার হান্টের মাধ্যমে নতুন পেসবোলার তৈরি করতে হবে। পেসবোলার সার্চিংয়ের ক্ষেত্রে বোলারের বলের স্পিড, বোলারের হাইট, শারীরিক গঠন এবং স্লগ ওভারে কেমন ব্যাটিং করতে পারে তা বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।

ঘ) বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে সময়ক্ষেপণ না করে কোর্টনি ওয়ালসের (ওয়ালসের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে বলছি) জায়গায় হিথ স্ট্রিকের মতো কোনো একজনকে নিয়োগ দিতে হবে।

ঙ) প্রতিটি উপজেলা ও জেলা শহরে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ও নেটের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

চ) বিসিবি-র তত্ত্ববধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড়দের নিয়মিতভাবে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে পাঠিয়ে তাঁদের মাধ্যমে উদীয়মান ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত ও উত্সাহ প্রদান করতে হবে।

ছ) জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নির্বাচকদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে এবং তারা ধর্ম, বর্ণ, আঞ্চলিকতা, ব্যক্তিগত পছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য যোগ্য খেলোয়াড় নির্বাচন করবেন।

জ) স্থানীয় প্রশিক্ষকদের বেতনভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করাসহ তাঁদেরকে দেশের বাইরে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে স্থানীয় প্রশিক্ষকগণই মাঠপর্যায়ের ক্রিকেটার তৈরিতে নিরলস পরিশ্রম করে থাকেন। সর্বোপরি, তাদের চাকরির নিয়োগ স্থায়ী হতে হবে, যাতে তাঁদের কোনো পিছুটান না থাকে।

সাদী ফকির, কোর্টপাড়া, কুষ্টিয়া