মাদারীপুরে আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৫:৪২

মাদারীপুর-৩ আসনের কালকিনিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নৌকা সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর সারে ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এসকেন্দার খাঁ (৭০)। নিহত এসকেন্দার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা. তাহমিনা বেগমের সমর্থক ও কর্মী। সে কালকিনি উপজেলা লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাটবালী গ্রামের আমির হোসেন খাঁর ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটতে বের হন এসকেন্দার খা। এ সময় মাদারীপুর-৩ আসনের নৌকা প্রার্থী ড. আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের সমর্থক ও লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক বেপারীর লোকজন হঠাৎ হামলা চালায়।

এ সময় এসকেন্দার খাকে এলোপাথারি কুপিয়ে আহত করে। তার পায়ের রগও কেটে ফেলা হয়। বাধা দিতে এলে আরেকজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে দুজনকেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসকেন্দার খা সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সারে ১২টার দিকে মারা যান। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।

লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন গেন্দু কাজী বলেন, ‘আমাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী এসকেন্দার খা সকালে তার বাড়ির সামনে হাটতে বের হলে হঠাৎ নৌকার সমর্থক ফজলুল হক বেপারীর লোকজন তাকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তিনি বরিশালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।’

এদিকে নৌকার সমর্থক ও লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অভিযুক্ত ফজলুল হক বেপারীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মাদারীপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা. তাহমিনা বেগম বলেন, ‘আমার এক কর্মীকে নৌকার পক্ষের লোকজন কুপিয়ে হত্যা করেছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে তারা এগুলো করছে।’

কালকিনি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মারগুব তৌহিদ বলেন, ‘গ্রাম্য দলাদলি ও রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে সকাল সাতটার দিকে এসকেন্দার খা বাড়ি থেকে বের হলে তাকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে জখম করেছে। পরে তাকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এইচএ