প্রধানমন্ত্রীর অর্জন ম্লান হচ্ছে এদের কারণে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২২:৫০

হাইকোর্ট বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল এবং ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি রক্ষায় একের পর এক আইন প্রণয়ন, সংবিধান সংশোধন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সারাবিশ্বে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর সব কর্মপ্রচেষ্টা ম্লান হয়ে যাচ্ছে দেশবিরোধী গুটি কয়েক অবৈধ দূষণকারী ও দখলদার এবং তাদের সহযোগী হাতে গোনা কিছু জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য। তুরাগ নদী রক্ষায় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এই রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা বিশ্বের প্রথম সরকারপ্রধান, যিনি পরিবেশ রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি বর্তমানে পাবলিক ট্রাস্ট মতবাদের শীর্ষস্থানীয় নেত্রী। তাঁর ধারেকাছেও বিশ্বের আর কোনো রাষ্ট্রনায়ককে দেখি না। রায়ে আরো বলা হয়, ১৯ বার শেখ হাসিনাকে তাঁর জীবনের ওপর সশস্ত্র হামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে। কারাবরণ করতে হয়েছে ৯ বার এবং          অসংখ্যবার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালোবাসার বৃষ্টিতে স্নাত হয়ে প্রধানমন্ত্রী সব সশস্ত্র হামলা, কারাবরণ ও ষড়যন্ত্রকে জয় করে প্রকৃতি, পরিবেশ ও পাবলিক ট্রাস্ট সম্পদ রক্ষায় দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়ে চলেছেন।

‘সিঙ্গাপুরের চেয়ে উন্নত হতো’:রায়ে আরো বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাবলিক ট্রাস্ট মতবাদকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি করেন। আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, তাহলে অনেক আগেই বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের চেয়েও সুন্দর রাষ্ট্রে পরিণত হতো।

রায়ে তুরাগ নদীকে আইনি/জীবন্ত সত্ত্বা ঘোষণা করে হাইকোর্ট। একই মর্যাদা পাবে দেশের মধ্য দিয়ে প্রবহমান সব নদ-নদী। একই সঙ্গে পাবলিক প্রপার্টি (জাতীয় সম্পত্তি) দখলকারী ও দূষণকারী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সব ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ছয় মাসের মধ্যে হাইকোর্টকে এফিডেভিট আকারে অবহিত করতে ইসিকে বলা হয়েছে।