ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, বিগত দিনে এই অঞ্চলে যারা সংসদ সদস্য ছিলেন তাদের দুঃশাসন ও অবহেলার কারণেই কিন্তু ২০১৪ সালে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। যে কারণে আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, ৪০ বছরের অবহেলিত জনপদকে মাত্র ১০ বছরে উন্নয়নের দৌড় গোড়ায় পৌঁছিয়েছি। একশ ভাগই সম্পন্ন করতে পারতাম যদি করোনাকালীন সময়ে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা না হতো। তারপরও আমি যা বলি তা করার চেষ্টা করি।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নে শরীফাবাদ বাজার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় একথাগুলো বলেন, ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে নেমেছি, আমাদের বিপক্ষেও একজন (কাজী জাফর উল্লাহ) নির্বাচন করছেন। গতকাল উনার বক্তব্য শুনলাম, এসপি (পুলিশ সুপার) কে নিয়ে উনার সমস্যা। এসপি উনার কোন কথাই শোনে না। এসপি সাহেব আসলে উনার কথা শোনা লোক না। এসপি সাহেব দিপক মজুমদার না, এসপি সাহেব রাজা না, এসপি সাহেব মিরন না। এসপি সাহেব একজন পুলিশ সুপার। তার দায়িত্ব একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করা। উনি নিজের মুখেই গতকাল দুইটা কথা বলেছেন, পুলিশ উনার কথা শোনে না, পুলিশ আসলে উনার কথা শোনার জন্য না। পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করবে, পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যা যা করা দরকার তাই করবেন।
নিক্সন বলেন, উনি বিপদের দিনে মানুষের পাশে থাকবে না, করোনার সময়ে মানুষ যখন বিপদে তখন দুই বছরেও উনি এলাকায় আসে নাই। একদিনও আসে নাই যে এলাকার মানুষ বেঁচে আছে না মরে গেছে। কিন্তু সাড়ে চার বছর পর উনি নৌকা নিয়ে আইসা কবে নৌকা নৌকা। চাচা নৌকাটা আপনার কাছে রাখেন, আপনারে নৌকা ঠিকই দিছে, কিন্তু বৈঠাটা আমারে দিছে। আপনি গাঙে নেমে তালবেতাল হারায় ফেলছেন।
তিনি আরও বলেন, দুইবার হারাইছি এবারও হারবেন হ্যাট্টিক হবে। আমারে বৈঠাটা দিয়ে দেয়, আমি কলাগাছের ভেলা বানাইয়া বৈঠা দিয়ে বাইয়া বাইয়া পার হয়ে যাই। আপনার যদি বুদ্ধি না থাকে তাহলে বৃদ্ধি কি আমি দিব। আপনি দশদিন ঢাকায় বইসা আছেন। আর ইলেকশন বাকি আছে দশদিন। ২৫টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা আপনি কীভাবে ইলেকশনটা করবেন। আপনি আগে থেকেই ফলাফল বুঝতে পাইরা এখন এসপির দোষ, ওসির দোষ নানা লোকের দোষ দিয়ে বাহানা শুরু করছেন।
নিক্সন বলেন, যখন ফুটবল খেলা হয় তখন গোল খাওয়ার পর রেফারির দোষ। চাচা এখন দোষ খুঁজতাছে। কয়দিন পর ভোট হবে, ভোটের পর চাচায় কবে নিক্সন সব ভোট কাইটা নিয়ে গেছে। উনি এখন দোষ চাপাচ্ছেন। আসলে কারোই দোষ না, দোষ আপনার। আপনি এলাকার মানুষের সাথে যে ব্যবহার করছেন, যেভাবে তাদের অবহেলিত রাখছেন, চল্লিশটা বছর তাদের রাস্তাঘাট ব্রিজ কিছুই করেন নাই সেই পাপে আপনারে ধরছে। কোন প্রশাসনই আপনারে কিছু করবে না, আপনি যখন দেখছেন পরাজয় নিশ্চিত তখন এসব বলছেন।
এমপি নিক্সন হাজারও জনতার উদ্দেশ্যে আরও বলেন, এলাকার উন্নয়ন হইলে সে উন্নয়নের হক আমার, যদি মূল্যায়ন হয় সম্মান ইজ্জত পান সেই হকও আমার। আমি যদি নির্বাচন না করতাম তাইলে উনি একদিনের জন্যও আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসতো না। আমি আপনাদের ভোটের অধিকার ফেরত দিছি। আপনাদের জন্য দশটি বছর কষ্ট করছি। তাই অনুরোধ আপনারা আমার জন্য গ্রামে নামেন মানুষের কাছে ভোট চান। আপনারা সকলেই এক একজন নিক্সন চৌধুরী। আমার জন্য ভোট চাইতে গেলে কারও কাছে আপনাদের লজ্জা পেতে হবে না। ইনশাল্লাহ এবার উনার (কাজী জাফর উল্লাহ) জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সাথে হ্যাট্টিক হবে। একটা হ্যাট্টিক নয়, দুইটা হ্যাট্টিক হবে, একটা আমার জয়ের আর একটি উনার পরাজয়ের হ্যাট্টিক।
নিক্সন বলেন, আপনারা সকলেই নিক্সন চৌধুরী। উনার মতো একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য না, একাধিক সদস্য আসলেও ভোট কেটে নিতে পারবে না। ৭ জানুয়ারি ভোটে সকলে ঈগল প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন। আমরা এই জয়ের মালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিব।
এ সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন, ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমানসহ নেতা-কর্মী এবং হাজারও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
