দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, দেশকে সংকটের মধ্যে নিক্ষেপ করতে যে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে তা প্রতিহত করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য দলে দলে ভোট দিতে যেতে হবে। শেখ হাসিনা মনোনীত ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে পিরোজপুর-২ আসনে বিজয়ী করার মধ্যদিয়ে এ চক্রান্ত নস্যাৎ করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার সমূদয়কাঠি গ্রামে নৌকা মার্কার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সমর্থনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন।
উঠান বৈঠকে তাসমিমা হোসেন বলেন, নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে একটি স্বাধীন দেশ অর্জন করেছিলো। এই অর্জিত স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের মৎস্য সম্পদ, খাদ্য শস্য, গার্মেন্টস শিল্প, পাট শিল্প ইত্যাদি রক্ষা করে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে হবে। অথচ এক দল গণবিরোধী মহল টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, বিদেশে অর্থ পাচার ইত্যাদি অপব্যবসার মাধ্যমে কালো টাকার মালিক হয়ে রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করতে চায়। পাকিস্তান আমলে ২২ পরিবার ছিলো। যারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে মানুষের স্বার্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতো।
তিনি বলেন, আজকে ২২ হাজার কোটিপতি পরিবার দেশে বিরাজ করছে। যারা সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। একদল ভূঁইফোড় লুটেরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে চলতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নতুন প্রজন্মকে মাদকাসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরা মানব শক্তিকে নষ্ট করতে তৎপর। এদের প্রতিহত করতে হবে। গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়ে কোন অপশক্তিকে লুটপাটতন্ত্র কায়েম করতে দেয়া হবে না। এদের হাত থেকে মা-বোনসহ সমাজকে রক্ষার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীদের নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখতে হবে নৌকা হচ্ছে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক।
সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, পিরোজপুর-২ আসনে এবার নৌকার প্রার্থী হিসাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সরকার গঠন ও শেখ হাসিনাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ভূমিকার কথা সকলের জানা আছে। তারই প্রতিদানে তাকে শেখ হাসিনা ৯৬ সাল ও ২০১৪ সালে মন্ত্রিসভার সদস্য করেছিলেন। আবার ২০১৮ সালে এবং চলতি সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের প্রার্থী করেছেন। ১৮ বছরের মন্ত্রীত্ব ও সাত বার সংসদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে আবারও সংসদ ও সরকারে নেওয়া মানুষের স্বার্থে প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পিরোজপুর-২ আসনে নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসীর স্বার্থে তাকে ভোট দেওয়া উচিত। তিনি কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকায় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগে এবং পাঁচ বার মন্ত্রী থাকার কারণে এ অঞ্চলে রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। নতুন এলাকা পশ্চাৎপদ উপজেলা নেছারাবাদের জন্য তাঁর মত অভিজ্ঞ ও উন্নয়নের রূপকারকে মানুষের ভোট দেয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে জনপ্রতিনিধিরা হচ্ছেন জনতার সেবক, মানুষের সেবক।
নৌকা মার্কার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সমর্থনে সমুদয়কাঠির একটি সেবাশ্রমে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনী উঠান বৈঠকে স্থানীয় প্রবীণ সমাজকর্মী অজিত রায়ের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস, সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম, আওয়ামী লীগের স্বরূপকাঠি উপজেলা সভাপতি সৈয়দ সহিদ আহসান, আওয়ামী লীগের স্বরূপকাঠি উপজেলা সহ সভাপতি অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ, স্বরূপকাঠি উপজেলা জেপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম সাঈদ প্রমুখ।
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরূপকাঠি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক শওকত আকবার, সহসভাপতি মীরা রানী চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফ আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রনী দত্ত জয়, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ মোহাম্মদ শাহীন, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রগতি মন্ডল, যুব মহিলা লীগের উপজেলা সভাপতি খন্দকার লাভলী আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রোকসানা পারভীন প্রমুখ।
স্বরূকাঠিতে সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, পিরোজপুর জেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান খোকন প্রমুখ। ভান্ডারিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির নেতাদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম খোকন সিকদার, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা পার্টির সভাপতি আসমা আখতার, উপজেলা মহিলা পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আক্তার, নারীনেত্রী অনামিকা চক্রবর্তী, নাসিমা আকতার প্রমুখ।
