অযত্নে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন: টঙ্গিবাড়ীর সোনারং জোড়া মন্দির

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:০০

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে অবস্থিত জোড়া মঠ অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন। জোড়া মঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও মূলত এটি জোড়া মন্দির। মন্দিরের একটি প্রস্তরলিপি থেকে জানা যায়, এলাকার রূপচন্দ্র নামে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বড় কালীমন্দিরটি ১৮৪৩ সালে ও ছোট মন্দিরটি ১৮৮৬ সালে নির্মাণ করেন। জরাজীর্ণ ও অব্যবস্থাপনায় হারাতে বসেছে এই মন্দির দুইটির ঐতিহ্য। ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠান দুটি প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের নামসর্বস্ব সাইনবোর্ড থাকলেও তা দেখভাল করার নজির দৃশ্যমান নয়। তাই মন্দির দুটি এখন মাদকাক্তদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

এছাড়া মন্দিরের সামনের অংশে বেশ বড় আকারের একটি পুকুর রয়েছে। বড় মন্দিরটি তৈরির সমসাময়িক সময়ে এই পুকুরটি খনন করা হয়। মূল মন্দিরের ছাদ নিচু গোলাকার গম্বুজ আকৃতির। কথিত আছে রূপচন্দ্রের অন্ত্যষ্টিক্রিয়া এখানেই হয়েছে। ছোট মন্দিরটি মূলত শিবমন্দির। বড় মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ১৫ মিটার। প্রায় ২৪১ ফুট উঁচু এই মঠ দিল্লির কুতুব মিনারের চেয়েও পাঁচ ফুট উঁচু। তাই এটি উপমহাদেশের সর্বোচ্চ মঠ। অষ্টভূজ আকৃতির এ মঠটি চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি। মন্দির দুটির মূল উপাসনালয় কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বারান্দা। বড় মন্দিরের ১ দশমিক ৯৪ মিটার ও ছোটটিতে ১ দশমিক ৫ মিটার বারান্দা। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসাইন জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। মন্দির দুটি অরক্ষিত থাকলে অবশ্যই যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম