‘এই ঐতিহাসিক জয় দেশ, সমর্থক ও দলের জন্য গর্বের’

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৫৯

দলে নেই পঞ্চপাণ্ডবের কেউই, তাই বলা যায় তরুণদের দল। এই দলই তুলে নিয়েছে ঐতিহাসিক জয়। প্রথম বারের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাদের দেশে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে টাইগাররা। আর এই ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন শেখ মাহাদী হাসান। তাতে হয়েছেন ম্যাচ-সেরাও। পরে দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। সেখানে জানান, এই ঐতিহাসিক জয় দেশ, সমর্থক ও দলের জন্য গর্বের।

সংবাদ সম্মেলনে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাহাদী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জয় পেলাম। অবশ্যই এটা আমাদের দেশ, সমর্থক ও দল সবার জন্য গর্বের ব্যাপার।’ এই জয়ের পর সিরিজ জয়ের দিকে এখন টাইগারদের নজর জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সিরিজ জয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। মাউন্ট মঙ্গানুইতে টেস্টে আমাদের অনেক ভালো সুখস্মৃতি আছে। এজন্য টি-টোয়েন্টিতে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখছি পরের দুই ম্যাচে।’

স্বল্প রানের লক্ষ্য পেয়েও তা তাড়া করতে খানিকটা বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতি দিয়ে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন ব্যাটাররা। একপাশ আগলে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওপেনার লিটন দাস। তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারছিলেন না কেউই। একপর্যায়ে ৯৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জয়ের পথটা খানিকটা কঠিন হয়ে এসেছিল সফরকারীদের সামনে। তবে সে ময় ব্যাট হাতে নামেন মাহাদী। লিটনের সঙ্গে কেবল ২৫ বলে ৪০ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। 

ঐ উইকেটে তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে মাহাদী বলেন, ‘যেহেতু লিটন লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করছিল, ওর আসলে উইকেট ও ম্যাচ সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়ে গিয়েছিল। এই ম্যাচটা জিততে আরও ছোট একটা জুটি হলে দলের জন্য ভালো। আমাদের ভালো জুটি হচ্ছিল, কিন্তু মাঝখানে দুই-তিনটা ব্রেক থ্রু চলে গেছে। ওখান থেকে লিটন বলছিল ইতিবাচক থাকতে। যা হবে, শেষ দুই ওভারে দেখা যাবে। শুধু এভাবে কথা বলে আমরা খেলছিলাম।’

শান্তর নেতৃত্বে এই দল বেশ ঐক্যবদ্ধ। গেল মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে টেস্ট কিংবা এই নিউজিল্যান্ড সফর সবখানেই টাইগারদের তরুণ এই নেতা জানিয়েছেন, দলগত পারফর্ম করলে তারা সব পরিস্থিতিতেই ম্যাচ জিততে পারবেন। তার ঐ কথাই গতকাল শোনা গেল মাহাদীর কণ্ঠে। এই অলরাউন্ডার জানালেন, দল জিততে হলে দলগত পারফরম্যান্সের কোনো বিকল্প নেই। বলেন, ‘আমাদের পেস বোলার সবাই ভালো করছে। একটা দল জিততে হলে আসলে সবার পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। এক-দুই জনের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ নয়। দল হয়ে খেলা, দলের পারফর্ম ছোটখাটো সবাই কমবেশি করে। আমরা স্পিনাররা ভালো বোলিং করেছি, পেস বোলাররা ভালো বল করেছে। এজন্য হয়তো কম রানে আটকাতে পারছি এবং আমরা জিতছি।’ 

নেপিয়ারের এই উইকেট পেস-বান্ধব। এই মাঠেই সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচে কিউই ব্যাটারদের নাস্তানাবুদ করেছেন টাইগার ৪ পেসার। ১০০ রানের আগেই অলআউট করে স্বাগতিকদের কাছ থেকে তুলে নেয় ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথম জয়। তাই এই ম্যাচেও যে টস জিতলে ফিল্ডিং নিয়ে পেসারদের দিয়ে টাইগাররা দাপট দেখাবে তা হয়তো ভেবেছিল ব্লাকক্যাপসরা। তবে এই ম্যাচে টাইগার অধিনায়ক শান্ত হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। প্রথম ওভারেই বোলিংয়ে নিয়ে আসেন শেখ মাহাদীকে। আর তাতেই বাজিমাত। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ওপেনার টিম সাইফার্টকে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের ধাক্কা দেন মাহাদী। এরপর নিয়েছেন আরও ১ উইকেট। বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও তিনি দেখিয়েছেন তার দক্ষতা। ১৬ বলের ইনিংসে ১ ছয় ও চারের মারে ১৯ রান করে দলকে ৮ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে নিয়ে যান তিনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচ