বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

জনগণের ভাগ্যন্নোয়নে দক্ষ নেতাকে ভোট দিতে হবে: তাসমিমা হোসেন

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ২২:৪০

দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, নির্বাচনে জনগণ তাদের ভাগ্য উন্নয়নে পরীক্ষিত, অভিজ্ঞ, দক্ষ, সক্ষম নেতৃত্বকে জনপ্রতিনিধি তথা সংসদ সদস্য হতে ভোট প্রদান করেন। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা দেখে-শুনে-বুঝে এমনই ব্যক্তিকে তাদের প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নিবেন, যিনি অতীতে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দীর্ঘকাল ধরে তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের সমর্থন নিয়ে সংসদে এবং সরকারে বারবার সম্মান ও প্রশংসা নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে পিরোজপুর-২ আসনে আবারও আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হবেন। 

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার গৌরীপুর ও ধাওয়া এলাকায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নৌকা মার্কার সমর্থনে পৃথক দুটি উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

তাসমিমা হোসেন বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে সাতবার এমপি এবং পাঁচবার সরকারের মন্ত্রী হয়ে এলাকা তথা দেশের সেবায় নিজের মেধা, প্রজ্ঞা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি আবারও পিরোজপুর-২ আসন (কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন। এই দীর্ঘ সময় তিনি এলাকা তথা দেশের উন্নয়নমূলক কাজে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ১৪ দলের মনোনয়নে নৌকা মার্কায় প্রার্থী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে সংসদ ও সরকারে পাশে চান বলেই তাকে প্রার্থী করেছেন। তিনি তার কর্মতৎপরতা ও বিশ্বাসের যে নজির দেখিয়েছেন, তার জন্যই প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত। 

তিনি আরও বলেন, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সন্তান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। পারিবারিকভাবে যেমন ভাণ্ডারিয়ার গৌরব, পাশাপাশি দেশের জন্য সম্পদ। ভাণ্ডারিয়াসহ এই এলাকার মানুষকে এই মূল্যায়ন করতে হবে। তার কাজের মূল্য দিতে সংসদ নির্বাচনে তাকে আবারও বিজয়ী করে দেশের সেবায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিতে পারলে সবাই অতীতের মতো উপকৃত হবে। এক সময় এ অঞ্চলের মানুষ নৌকায় চলাফেরা করতো। ছাত্র-ছাত্রীরা হ্যারিকেনের আলোয় লেখাপড়া করতো। এখন গ্রামে গ্রামে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলে। মানুষ গ্রামে গাড়ীতে চড়ে, ঘরে বসে টেলিভিশন দেখে, ফ্রিজ ব্যবহার করে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হয়ে শেখ হাসিনা ও এরশাদের সঙ্গে সরকারে থেকে যোগাযোগ মন্ত্রী, বিদ্যুৎ মন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। 

তাসমিমা হোসেন বলেন, আমিও ১৯৯৬ সালে উপনির্বাচনে ভাণ্ডারিয়া-কাউখালীর সংসদ সদস্য ছিলাম। তখন গ্রামের অর্থনীতি-রাজনীতি-সংস্কৃতি রক্ষা ও বিকাশের জন্য সচেষ্ট ছিলাম। অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের মানসিক উন্নয়নও প্রয়োজন বলে আমি মানুষকে কৃষি, মৎস্য চাষ, নিজস্ব সংস্কৃতি, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছি। আমি আমার স্বামী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কাছ থেকে উৎসাহ ও সমর্থন পেয়ে এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করেছি। আমাদের সঙ্গে এ এলাকার অনেক মানুষ অতীতেও ছিলেন, বর্তমানেও আছে। আবার কিছু দুষ্ট ও দুর্বৃত্ত প্রকৃতির মানুষ আমাদের সঙ্গে থেকে টেন্ডারবাজি করে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কালো টাকার মালিক হয়েছে। তারা এই টাকা দিয়ে কেউ কেউ জনপ্রতিনিধি হয়ে মাদক ব্যবসা, সোনা পাচার, বিদেশে অর্থ পাচার ইত্যাদি অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনাকে যখন আপনাদের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিরোধিতা করতে শুরু করলেন, তখন ওই সব মীরজাফররা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো। তারা জানে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সংসদে বা সরকারে গেলে তাদের এই কালো ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের অপরাধকর্ম চালিয়ে যেতে চলতি সংসদ নির্বাচনে ওই দুর্বৃত্তরা প্রার্থী হয়ে কালো টাকা বিছিয়ে কিশোর-তরুণদের প্রলুব্ধ করে ভোট কিনে এমপি হতে চায়। তারা টাকা দিয়ে প্রশাসনকে কিনতে চায়। দেশ ও জাতির স্বার্থে আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই নির্বাচনে এই গণবিরোধী ব্যক্তিদের প্রতিহত করতে হবে। 

‌‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলের প্রার্থী হিসাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে নৌকা মার্কা দিয়েছেন’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এ এলাকার মানুষ যেমন চায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবারও সংসদ সদস্য হন, তেমনি প্রধানমন্ত্রীও চান তার অতীতের দুইবারের মন্ত্রিসভার এ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তার সঙ্গী হন। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও কর্মক্ষম নেতাকে শেখ হাসিনার সহযোগী করার জন্য ভোট দিয়ে বিজয়ী করা ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদের মানুষের কর্তব্য। তাই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে সংসদ সদস্য করার জন্য তাসমিমা হোসেন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। 

জাতীয় পার্টি-জেপি’র অঙ্গ সংগঠন জাতীয় মহিলা পার্টির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকালে গৌরীপুর ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ীতে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনী উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক প্রবীর কুমার হাওলাদার। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জেপি নেতা জামাল উদ্দীন লিটন, ইউনিয়ন যুব সংহতির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান, প্রভাষক রেশমা আক্তারসহ অনেকে। 

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় পার্টি-জেপি’র অঙ্গ সংগঠন জাতীয় মহিলা পার্টির উদ্যোগে ধাওয়া ইউনিয়নের পশারীবুনিয়া বাজারে আরেকটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রবীণ সমাজকর্মী আব্দুস সোবহান আকনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা পার্টির উপজেলা সভাপতি আসমা আখতার, জেপি’র উপজেলা সহ-সভাপতি কাওসারুল ইসলাম মালকার, সহ-সভাপতি মাহাবুবুল হক খোকন মৃধা, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন, ইকড়ি ইউনিয়ন জেপি সভাপতি আব্দুর রউফ, আওয়ামী লীগ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান হাওলাদার আবু, ধাওয়া ইউনিয়ন যুব সংহতির সভাপতি লিটন তালুকদার, সাবেক ইউপি সদস্য ও যুব সংহতির নেতা আবু তালুকদারসহ অনেকে। 

বৃহস্পতিবারের এই নির্বাচনী প্রচারণা সফরে তাসমিমা হোসেনের সঙ্গে আরও ছিলেন উপজেলা মহিলা পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আকতার, নারী নেত্রী পারভীন আক্তার, নাসিমা আক্তার, অনামিকা চক্রবর্তী, শিরীন খান, শিমু আক্তার, উম্মে হাবিবা আক্তার, ঝুমুর কাজি, রেশমা আক্তারসহ অনেকে। 

ইত্তেফাক/ডিডি