এয়ারওয়েজ অফিস খুলে প্রতারণা হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিক্রেতার

পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিয়োগের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৪১

দেশি বিমান সংস্থায় এয়ার হোস্টেজসহ বিভিন্ন পদে লোভনীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের ফাঁদ পাতে একটি চক্র। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ কোম্পানি লিমিটেড (এএনএ) নামে একটি বিদেশি বিমান সংস্থার নামে অফিস খুলে মাত্র এক মাসেই চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। র্যাবের হাতে ধরা পড়ল চক্রটির হোতাসহ চার সদস্য। গ্রেফতার চক্রটির হোতা একজন গ্রাম্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিক্রেতা। 

পত্রিকায় এএনএ নামের বিমান সংস্থার এয়ার হোস্টেজসহ বিভিন্ন পদে লোভনীয়  বেতনে স্টাফ নেওয়ার বিজ্ঞাপন দেন তিনি। আর বিজ্ঞাপন দেখে অন্তত ২০০ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন সেখানে। এর মধ্যে বাছাই করে ১৭০ জনকে চাকরির ইন্টারভিউর জন্য ডাকা হয়। ইন্টারভিউতে বসার ক্ষেত্রে অগ্রিম দিতে হয় ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে আরো ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—চক্রের হোতা হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিক্রেতা এম এ হক আলম ফরহাদী, মেহেরাব  হোসেন, মো. রাসেল হোসাইন ও শাহাদাত হোসেন। উদ্ধার করা হয় চাকরিপ্রার্থীদের কাছ  থেকে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা, প্রতারণায় ব্যবহূত ল্যাপটপ, মনিটর, বিপুল পরিমাণ চাকরির আবেদনপত্রসহ প্রতারণায় ব্যবহূত মালামাল। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র?্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-১০-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন।

তিনি বলেন, প্রতারক চক্রটি মাত্র এক মাসে চটকদার বিজ্ঞাপনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরি  দেওয়ার নামে শুধু ইন্টারভিউর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রের টার্গেট ছিল আগামী ছয় মাস চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ইন্টারভিউ ও প্রশিক্ষণের নামে অন্তত ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে  নেওয়া। পাশাপাশি ভাটারায় ড্রাগমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলে টাকা আদায়ের চুক্তি করে। এর মাধ্যমেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল।

র্যাব-১০ অধিনায়ক বলেন, প্রতারক চক্রের হোতা আলম ফরহাদী সামান্য পড়াশোনা করে ফেনীতে নিজ এলাকায়  হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিক্রি করত। পরে ঢাকায় এসে অল্প সময়ে বেশি টাকা আয় করতে বিভিন্ন প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এই প্রতারণা করতে গিয়ে নিজেকে বিসিএস শিক্ষা কর্মকর্তা, দুদক কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করতেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদ উদ্দীন আরো বলেন, গ্রেফতার আলম ফরহাদী র্যাবের কাছেও ১৮-১৯ বছর ধরে দুদকের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন বলে পরিচয় দেন। যদিও যাচাই-বাছাই  দেখা যায় তিনি সরকারি কোনো পদেই নেই। ফরহাদীর বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের দুটি মামলা রয়েছে।

র্যাব-১০-এর অধিনায়ক জানান, গ্রেফতার মেহেরাব হোসেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। চাকরির খোঁজ করতে ফরহাদীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তী মোটা অঙ্কের টাকা বেতনের প্রলোভনে তিনি এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যান। প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

গ্রেফতার শাহাদাত হোসেন পড়ালেখা শেষ করে বেকার ছিলেন। এর আগে তিনি কয়েক মাস একটি এয়ার টিকিটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। সহকর্মীর মাধ্যমে ফরহাদীর সঙ্গে পরিচয় হলে চক্রে যোগ দিয়ে রিজারভেশন অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। গ্রেফতার রাসেল  হোসাইন পড়াশোনা শেষে চাকরি খুঁজতে গিয়ে ফরহাদীর সঙ্গে পরিচয়। পরে ফরহাদীর নতুন অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করে।

ইত্তেফাক/এএইচপি